আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বেই ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরান সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।
মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি শুরু থেকেই তেহরানের অন্যতম প্রধান এবং অনমনীয় দাবি ছিল। এই বিষয়ে ইরান প্রথম থেকেই সর্বোচ্চ জোর দিয়ে আসছিল, যার ফলশ্রুতিতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন। অবশ্য বহুজাতিক নৌ নিরাপত্তা সমন্বয়কারী সংস্থা ‘জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার’ গত সোমবার (১৫ জুন) জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বহাল থাকবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দুই পক্ষ ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। সংঘাত চরম রূপ নিলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেয় তেহরান।
এরই প্রেক্ষিতে ইরানের বন্দর ও জাহাজগুলোর ওপর কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা তীব্র সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পর অবশেষে দুই পক্ষের সমঝোতার উদ্যোগের মাঝেই এই অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা এলো। সূত্র: জিও নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বাস্তবতা দেখছেন পেজেশকিয়ান
ইরান-লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্পকে নিয়ে হতাশ নেতানিয়াহু