অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে মাটির নিচে তৈরি একটি সুড়ঙ্গ থেকে ২.৭ টন (২ হাজার ৭০০ কেজি) কোকেন জব্দ করেছে দেশটির পুলিশ।
এটি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় মাদক জব্দের ঘটনা। উদ্ধারকৃত এই কোকেনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮১ কোটি ৬০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) সিডনির লন্ডনডেরি এলাকার একটি খামারে রাখা তিনটি শিপিং কনটেইনারের মেঝের নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন কুঠুরি থেকে এই মাদকের চালান উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ দেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ২১ ও ২৫ বছর বয়সী দুই যুবককে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবৈধভাবে সীমান্ত-নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক পরিমাণের মাদক রাখার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত শনিবার আদালতে হাজির করার পর তাদের জামিন নামঞ্জুর করে হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের নির্দেশে উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ছোট শহর 'মিজ পয়েন্ট' হয়ে এই বিপুল পরিমাণ কোকেন অস্ট্রেলিয়ায় চোরাচালান করা হয়েছিল।
লন্ডনডেরির ওই খামারে এই অভিযানটি ছিল মূলত "অপারেশন মিনজিয়াং"-এর অংশ। গত মে মাসে মিজ পয়েন্টের একটি বোট র্যাম্পের কাছে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ৪০ কেজি কোকেন উদ্ধারের পর এই বিশেষ অপারেশন চালু করা হয়েছিল।
পুলিশ গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, ওই ঘটনার সূত্র ধরে তদন্তের পর কুইন্সল্যান্ড এবং নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, এই চোরাচালান চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সন্দেহভাজন একটি ‘মাদার ভেসেল’ বা বড় জাহাজকে সলোমন দ্বীপপুঞ্জে আটকে রাখা হয়েছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হলেও অস্ট্রেলিয়ার মাদক বাজার অপরাধ চক্রগুলোর জন্য অত্যন্ত লাভজনক। ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি অবৈধ ড্রাগ মনিটরিং সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি গ্রাম কোকেন সাধারণত ৩০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি হয়। এছাড়া, জাতিসংঘের গত বছরের ‘ওয়ার্ল্ড ড্রাগ রিপোর্ট’ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মানুষের মধ্যেই কোকেন ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কমান্ডার স্টিফেন জে এই অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে অপরাধী চক্রগুলো কতটা সুসংগঠিত, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং মুনাফার জন্য তারা কতটা চরম পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, এই মাদকের মূল উৎস খুঁজে বের করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠকে যেসব আলোচনা হলো
কাতারে এলএনজি কারখানায় বিস্ফোরণ, আহত অর্ধশতাধিক
সুইজারল্যান্ডে আলোচনা স্থগিত, কঠোর বার্তা ইরানের
লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না ইসরায়েল: নেতানিয়াহু