যুক্তরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে আসছে ভয়ংকর ‘লালা’

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের দিকে এগিয়ে আসছে হারিকেন ‘লালা’। এর প্রভাবে শনিবার থেকেই হাওয়াইয়ের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত। এতে এরই মধ্যে ৪২ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। এদিকে প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।

পাওয়ারআউটেজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত হাওয়াইয়ে ৪২ হাজার ৮৮৯ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, ‘লালা’র প্রভাবে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে বিশেষ করে পাহাড়ি ও খাড়া ঢালু এলাকায় প্রাণঘাতী বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাওয়াইয়ান ইলেকট্রিক জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সারাতে সময় লাগতে পারে। ফলে অনেক গ্রাহককে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হতে পারে। বিগ আইল্যান্ডের হামাকুয়া উপকূলীয় এলাকায় গাছ পড়ে বিদ্যুতের একাধিক খুঁটি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৪২ মাইল বা ৬৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন কর্মীরা।

এর আগে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছিল, ‘লালা’র সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বা ১২০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। এ গতিবেগের কারণে ঝড়টি ১ নম্বর ক্যাটাগরির হারিকেনে রূপ নেয়।

বিগ আইল্যান্ডের মাউনাকেয়া ওয়েদার সেন্টারে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে বাতাসের গতিবেগ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

হারিকেন ‘লালা’র প্রভাবে হাওয়াইয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এনএইচসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিগ আইল্যান্ডে ১০ থেকে ২০ ইঞ্চি বা ২৫ দশমিক ৪ থেকে ৫১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২৫ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া পূর্ব মাউইয়ে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি এবং পশ্চিম মাউইয়ে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অতিভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হারিকেনের প্রভাবে হাওয়াইয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটেছে। হাওয়াই পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে শনিবার দুপুর ২টা থেকে এলিসন ওনিজুকা কোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া হাওয়াই দ্বীপ, মাউই কাউন্টি ও কাউয়াইয়ের বাণিজ্যিক বন্দরগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

হারিকেনটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে হাওয়াইয়ের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় আরও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হাওয়াইয়ান ইলেকট্রিক গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।

Maz
আরও পড়ুন