দীর্ঘ ৪৭ বছর পর সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং দেশটির বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনরায় যুক্ত হওয়ার প্রধান বাধাগুলো দূর হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে সিরিয়া সরকার পুরোপুরি নিজেদের দূরে সরিয়ে নেওয়ার ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোকে স্বীকৃতি দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে স্বাগত জানিয়েছে। তিনি পূর্বে একটি সাবেক সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন এবং একসময় তাঁর মাথার ওপর মার্কিন পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর দল হায়াত তাহরির আল-শামকে মার্কিন বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের শেষের দিকে এই এইচটিএস-এর নেতৃত্বেই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটে এবং আহমেদ আল-শারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন।
রাশিয়া বা চীনের প্রভাব থেকে বের করে সিরিয়াকে নিজেদের বলয়ে নিয়ে আসাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও জানান, এই পদক্ষেপ সিরীয় জনগণের জন্য সমৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আজকের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে সিরিয়ায় অতিরিক্ত বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করবে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে 'ঐতিহাসিক পদক্ষেপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সিরিয়া বিশ্বমঞ্চে নিজের বিচ্ছিন্নতা দূর করতে এবং পারস্পরিক সম্মান ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিবেশ তৈরি করতে কাজ চালিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে সন্ত্রাসী তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর এখন বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশ হলো কিউবা, উত্তর কোরিয়া এবং ইরান।
সূত্র: বিবিসি
সৌদিসহ বিভিন্ন দেশের ৪৫ জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করলো ইরান
ইরানের বিরুদ্ধে যেসব নিষেধাজ্ঞা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র