জাতিসংঘে খামেনির ছবি তুলে ধরলে ইরানের প্রেসিডেন্টের গর্জন

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়ে সরাসরি আগ্রাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। নিউইয়র্কের জাতিসংঘের সদর দপ্তরে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি একাধারে আলোচনার প্রস্তাব রেখেছেন, অন্যদিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন-আগ্রাসন চালালে তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত। ভাষণের শুরুতেই এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।

তিনি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের নিহত স্কুলশিক্ষার্থীদের ছবি হাত উঁচিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি প্রকাশ্য অধিবেশনে অভিযোগ করেন, মার্কিন সেনারা লামের্দ অঞ্চলে ক্লাস্টার বোমা বা গুচ্ছবোমা ব্যবহার করে নিরীহ ইরানি শিশুদের ওপর নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।   ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্ব দরবারে যারা ইরানকে সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত করে, তারাই বাস্তবে পৃথিবীর ইতিহাসের জঘন্যতম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে চলেছে। তিনি ঐতিহাসিক তথ্য উল্লেখ করে মনে করিয়ে দেন যে, গত ২০০ বছরে ইরান নিজে থেকে কোনো দেশে হামলা বা আগ্রাসন চালায়নি। কিন্তু মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের অবস্থান সব সময়ই আপসহীন ও দৃঢ়।  

ইরানের নিরাপত্তা ভাবনার কঠোর বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, তেহরানকে এতটাই শক্তিশালী হতে হবে যেন কোনো শত্রু তাদের ওপর হামলা চালানোর বা শহরগুলোতে বোমা ফেলার আগে হাজারবার ভাবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের যে বৈশ্বিক অধিকার রয়েছে, তা থেকে দেশ কোনোভাবেই সরে আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন পেজেশকিয়ান।  

আন্তর্জাতিক নৌপথের বর্তমান জটিল পরিস্থিতি তুলে ধরে ইরানি রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা ইরানের প্রাণকেন্দ্র সমুদ্রপথগুলো বন্ধ করে দিতে চায়, অথচ সেসব পথই তারা নিজেদের স্বার্থে সরবরাহ লাইন হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে মনে রাখতে হবে, বোমা বা সরাসরি আগ্রাসন চালিয়ে মুক্তি সংগ্রাম ও প্রতিরোধ লড়াইকে কখনো স্তব্ধ করা যায় না। বিশ্বশক্তির চাপিয়ে দেওয়া অতীত যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দেন যে, ইতিহাস সাক্ষী ইরানিরা যুদ্ধকে ভয় পায় না।

 


আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দ্বিমুখী আচরণ ফাঁস করে পেজেশকিয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে ইসরায়েল অবৈধ পারমাণবিক অস্ত্রের বিশাল স্তূপ নিয়ে বসে আছে, সেখানে আইএইএর পরিদর্শকেরা কেবল ইরানের পেছনেই দৌড়ে বেড়াচ্ছেন! তিনি বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন কোনো বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে না যেখানে কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে আধিপত্য বা গায়ের জোর চাপিয়ে দেওয়া হয়।  

আলোচনার সুযোগ রাখা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তেহরান কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সব সময় তৈরি, কিন্তু ধমক বা হুমকির ভাষায় কোনো কথা তারা মেনে নেবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি খেদ প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এখনো পুরনো হুমকির ভাষাতেই আটকে আছেন। সবশেষে তিনি পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করেন, আলোচনার দুয়ার খোলা থাকলেও ইরান নিজের প্রতিরক্ষায় একচুল ছাড় দেবে না।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

এটিটিআর
আরও পড়ুন