ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন চরমে পৌঁছেছে। আন্দোলনের ১১তম দিনে বিক্ষোভকারীরা দেশটির প্রভাবশালী সামরিক নেতা ও কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানির একটি ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স প্রদেশের কায়েমিয়েহ শহরে বিক্ষোভকারীরা কাসেম সোলাইমানির একটি বিশালাকার মূর্তি ভেঙে ফেলে। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
২০২০ সালে মার্কিন হামলায় নিহত সোলাইমানিকে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মনে করা হয়। এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লোরদেগানে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানিয়েছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের অন্তত ১১১টি শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ৫ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন এবং প্রায় ৪০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে যোগ দেন। পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি দুর্নীতির ফলে ইরানের অর্থনীতি এখন চরম সংকটে।

