গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম

লিবিয়ার সাবেক একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে (৫৩) দেশটির একটি শহরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান সামাজিক মাধ্যমে আলাদা পোস্টে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তবে তারা ঘটনার বিস্তারিত জানাননি। 

লিবিয়ার সংবাদমাধ্যম ফাওয়াসেল মিডিয়া জানায়, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে জিনতান শহরে নিজ বাসভবনে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় নিহত হন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি।

পরে তার রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, চারজন মুখোশধারী ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করে। বিবৃতিতে একে ‘কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতক হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, হামলাকারীদের সঙ্গে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির ধস্তাধস্তি হয় এবং তারা বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়, যাতে ঘটনার আলামত গোপন রাখা যায়।

ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রীয় সংস্থা হাই স্টেট কাউন্সিলের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিশরি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জরুরি ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ ছিল না। তবে ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তাকে তার বাবার কার্যত ‘দ্বিতীয় ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ২০১১ সালে লিবিয়ার বিরোধী শক্তির হাতে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হলে তার দীর্ঘ শাসনের অবসান হয়।

২০১১ সালে ত্রিপোলি পতনের পর দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে জিনতানে আটক হন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি জিনতানেই বসবাস করছিলেন।

১৯৭২ সালের জুনে ত্রিপোলিতে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ছিলেন মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় সন্তান। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পড়াশোনা করা এই নেতা দীর্ঘদিন নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি সংবিধান প্রণয়ন, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলতেন।

 

AHA
আরও পড়ুন