তেল আবিবে ইসরায়েলি ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর হামলা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:১০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত একাধিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। একদিকে লেবানন সীমান্ত, অন্যদিকে ইরাকের কুর্দিস্তান—সব মিলিয়ে যুদ্ধের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

ইসরায়েলের অর্থনৈতিক ও সামরিক কেন্দ্র তেল আবিবকে লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার দাবি করেছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, শহরটির দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তেল হাশোমার ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে—যা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ সদরদপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

হিজবুল্লাহর দাবি, বুধবার (৪ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এই সমন্বিত ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলসহ লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক আগ্রাসনের’ প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া বেশিরভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও কিছু হামলা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছিল কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সীমান্তবর্তী লেবাননের অন্তত ছয়টি শহরে কয়েক কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলি সেনারা। সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো, অস্ত্রভাণ্ডার ও ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

একই সময়ে সংঘাতের আরেকটি মাত্রা যোগ করেছে ইরান। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে তেহরানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে কোমালা ও অন্যান্য ‘প্রতিবিপ্লবী’ গোষ্ঠীর সদরদপ্তরে আঘাত হানা হয়েছে।

পটভূমিতে রয়েছে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন, যার লক্ষ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাত করা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই গোষ্ঠীর হাজার হাজার সদস্য আগেই ইরানে প্রবেশ করেছে এবং সম্ভাব্য বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, সিআইএ গোপনে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে—যদিও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি।

সূত্র: এএফপি

AS/AHA
আরও পড়ুন