ইরানের ২টি বোমারু বিমান ভূপাতিত করলো কাতার

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৭ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নজিরবিহীন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি ‘আল-উদাইদ’ এবং দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড ‘রাস লাফান’ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার উদ্দেশ্যে আসা ইরানের দুটি শক্তিশালী বোমারু বিমানকে মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করেছে কাতারি বিমান বাহিনী।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরাসরি কোনো আকাশযুদ্ধে (Air-to-Air Combat) জড়াল কাতার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং পেন্টাগন সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, গত সোমবার সকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সোভিয়েত আমলের দুটি ‘সু-২৪’ (Su-24) ট্যাকটিক্যাল বোমারু বিমান কাতারের দিকে পাঠায়। বিমানগুলো রাডার ফাঁকি দিতে মাত্র ৮০ ফুট উচ্চতা দিয়ে উড়ছিল এবং সেগুলোতে শক্তিশালী গাইডেড বোমা ও যুদ্ধাস্ত্র সজ্জিত ছিল। যখন কাতারি বিমান বাহিনী সেগুলোকে শনাক্ত করে, তখন সেগুলো টার্গেট থেকে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে ছিল।

কাতারি পক্ষ থেকে রেডিওর মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো হলেও ইরানি বিমানগুলো কোনো সাড়া দেয়নি। সময় সল্পতা এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে কাতার দ্রুত তাদের ‘এফ-১৫’ (F-15) যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে ওড়ায়। সংক্ষিপ্ত এক আকাশযুদ্ধের পর কাতারি ফাইটার জেটের গোলার আঘাতে দুটি ইরানি বিমানই বিধ্বস্ত হয়ে কাতারের জলসীমায় আছড়ে পড়ে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলট ও ক্রু সদস্যদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাতারি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের দুটি বোমারু বিমানকে ভূপাতিত করেছে।’

অন্যদিকে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এই হামলাকে ‘চরম উসকানিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘ইরান তার প্রতিবেশীদের ক্ষতি করতে চাইছে এবং তাদের এমন এক যুদ্ধে টেনে আনতে চাইছে যার সাথে কাতারের কোনো সম্পর্ক নেই।’

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত তেহরান। এ পর্যন্ত তারা উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ৪০০-এর বেশি ব্যালেস্টিক মিসাইল এবং ১০০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়েছে। তবে এবারই প্রথম ড্রোন বা মিসাইলের বদলে চালকবাহী বোমারু বিমান পাঠিয়ে প্রতিবেশী দেশে সরাসরি হামলার দুঃসাহস দেখাল ইরান।

DR
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত