অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিচার বিভাগে বরাদ্দ বৃদ্ধি

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করার লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য সামগ্রিকভাবে ২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২ হাজার ৭৫ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি। 

একই সাথে বিচার বিভাগের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সুপ্রীম কোর্টের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ২৯১ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা আগের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৭০ কোটি টাকা। বাজেটের এই আর্থিক সংশ্লেষ দেশের বিচারিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মামলা জট কমানোর রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়।

আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবারের বাজেটে বিশেষ আইনি সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক বিরোধ, বিশেষ করে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত জটিল মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল বা আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে সরকার। এছাড়া দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশের গুণগত পরিবর্তন ও বিদেশি বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা জোরদার করতে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি আন্তর্জাতিক মানে হালনাগাদ করার দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ কমানোর ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রচলিত আনুষ্ঠানিক আপিল ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সহজ সমাধানের পথ তৈরি করতে আয়কর বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর-এর পরিধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। 

একই সাথে আর্থিক খাতের বড় চ্যালেঞ্জ খেলাপি ঋণ আদায়ের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং আদালতের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে মামলা দায়েরের পূর্ববর্তী পর্যায়ে মধ্যস্থতা বা প্রি-লিটিগেশন মিডিয়েশন পদ্ধতি ব্যবহার করতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করবে সরকার।

Attr/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত