ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার উত্তরসূরি হিসেবে দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনির নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। তেহরানে খামেনির বাসভবনে ওই ভয়াবহ হামলার সময় মোজতবা উপস্থিত না থাকায় তিনি বেঁচে গেছেন, যদিও পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মধ্যে মোজতবার সম্ভাব্য উত্থানকে ইরানের রাজনীতির এক নতুন বাঁক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা প্রকাশ্য কোনো দাপ্তরিক পদে ছিলেন না। তবে গত তিন দশক ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠতম মহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে ইরানের এলিট বাহিনী ‘ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের’ (আইআরজিসি) সঙ্গে তাঁর রয়েছে গভীর ও কৌশলগত সম্পর্ক। ১৯৮০ এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আইআরজিসির হাবিব ব্যাটালিয়নে সরাসরি অংশ নেওয়ার মাধ্যমেই এই সম্পর্কের সূত্রপাত।
পশ্চিমা গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার মতোই কট্টরপন্থী ধারার অনুসারী। তিনি সর্বোচ্চ নেতা হলে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের কোনো চুক্তি বা আলোচনায় বসার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়বে। তবে তার এই সম্ভাব্য পদায়ন নিয়ে ইরানের ভেতরে-বাইরে বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, মোজতবার ক্ষমতায় আসা মানে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে উৎখাত হওয়া ‘রাজতন্ত্র’ বা বংশীয় শাসন ব্যবস্থাকে পরোক্ষভাবে ফিরিয়ে আনা।
মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ‘গ্রিন মুভমেন্ট’ এবং সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন গণআন্দোলন দমনে আইআরজিসি ও আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-কে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের ৮ ও ৯ জানুয়ারি রাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
মোজতবা খামেনি বর্তমানে ‘হুজ্জাত-উল ইসলাম’ বা মাঝারি পর্যায়ের ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার জন্য ‘আয়াতুল্লাহ’ হওয়া আবশ্যক হলেও ১৯৮৯ সালে তাঁর বাবার বেলাতেও এই নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল। এবারও ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পর্ষদ একই ধরনের সমঝোতা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তীব্র বোমাবর্ষণ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার কারণে বর্তমানে ইরানে এক ধরণের তথ্যগত সীমাবদ্ধতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল দেশটির প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করছে। কাউন্সিলে আছেন কট্টরপন্থী নেতা আলিরেজা আরাফি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পর্ষদই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে কে হবেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ শক্তি।
৮ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে ইরান যুদ্ধ: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
জেন-জি বিপ্লবের পর কার দখলে যাচ্ছে কাঠমান্ডুর সিংহাসন
