যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে পিছু হটা তো দূরে থাক, উল্টো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, শত্রুপক্ষকে ‘বেদনাদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক’ শিক্ষা দিতে তারা বিশেষ কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র আলাদা করে তুলে রেখেছে, যা এখনও ব্যবহার করা হয়নি।
শুক্রবার (৬ মার্চ) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘ইরান দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের হাতে এমন কিছু উন্নত প্রযুক্তি ও বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে যা শত্রুকে চমকে দেবে। এগুলো বর্তমানে ‘পাইপলাইনে’ আছে এবং যথাসময়ে সেগুলোর বড় পরিসরে প্রয়োগ করা হবে।’
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ ২১ দিন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। এই সংঘাতের সপ্তম দিনে এসে ইরান তাদের অনমনীয় অবস্থানের কথা জানান দিল। গতকালই প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নিজেদের ‘খাইবার’ নামক ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নায়েইনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের যে সংঘাত হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত। তিনি এই লড়াইকে একটি ‘পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা যেকোনো ত্যাগের জন্য প্রস্তুত। শত্রুপক্ষ আমাদের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে এখনও অন্ধকারে রয়েছে।’
ইরানের এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের হাতে থাকা অঘোষিত অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার শুরু হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতেও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ইরানে হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
ভারতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে দুই পাইলট নিহত
সৌদি আরবকে ইরানের বিশেষ ধন্যবাদ
যুদ্ধ থামানোর আলোচনার মাঝেই ইউক্রেন-রাশিয়ার ৪শ বন্দিবিনিময়
