মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান।
শনিবার (১৪ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের দাবি, এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি জানান, ইরানি বাহিনী মার্কিন সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে ‘ধারাবাহিক কয়েক দফা’ জোরালো আক্রমণ পরিচালনা করেছে। হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল:
- সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবির আল-ধাফরা ঘাঁটি।
- কুয়েত: আল-আদিরি ঘাঁটি।
- বাহরাইন: শেখ ইসা ঘাঁটি।
অ্যাডমিরাল তাংসিরি দাবি করেছেন, এই নিখুঁত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম’, বেশ কিছু সামরিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানবাহিনীর বিশাল জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে, ভারত মহাসাগরে ইরানের নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’-তে মার্কিন হামলায় ১০৪ জন নৌসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তেহরান। এই ‘নৃশংস’ হত্যাকাণ্ডের কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।
তিনি বলেন, আইআরআইএস দেনা একটি শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক মিশন শেষ করে ফিরছিল। কোনো যুদ্ধে লিপ্ত না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে আমাদের নাবিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। দেনা ডেস্ট্রয়ারের ক্রুরা ইরানের ইতিহাসে সাহসের প্রতীক হয়ে থাকবেন।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় এবং নৌ-সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইরান এখন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনায় এই হামলা কেবল শুরু। ভারত মহাসাগরে রণতরি ডুবানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের রূপ নিতে যাচ্ছে।
১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে গুণতে হবে চীনা মুদ্রা
