মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে ইরানের অভ্যন্তরে সব ধরনের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করেছে ইসরায়েল। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই বিরতি কেবল ইরানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের চলমান রক্তক্ষয়ী লড়াই অব্যাহত থাকবে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোর ৩টার পর থেকে ইরানে আর কোনো নতুন বিমান হামলা চালায়নি ইসরায়েলি বিমানবাহিনী (আইএএফ)।
আইডিএফ জানিয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তারা ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশনাল পজ’ বা অভিযানের সাময়িক বিরতি কার্যকর করেছে।
ইরান ফ্রন্টে নমনীয়তা দেখালেও লেবানন সীমান্তে কোনো ছাড় দিচ্ছে না তেল আবিব। মঙ্গলবার রাতভর লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘ব্যাপক ও বিধ্বংসী’ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে হিজবুল্লাহর কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং লঞ্চিং প্যাড ধ্বংস করার দাবি করেছে আইডিএফ। তাদের ভাষ্যমতে, হিজবুল্লাহর আক্রমণের সক্ষমতা পুরোপুরি পঙ্গু করে দিতেই এই আক্রমণাত্মক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ইসরায়েল আপাতত দুই সপ্তাহের হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, তবে এই সমর্থন কিছু নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভরশীল।
ইসরায়েলের প্রধান শর্তগুলো হলো- ইরানকে অবিলম্বে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর সব ধরনের হামলা বা উসকানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের হামলা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শর্ত মানলেও লেবাননে হামলা থামাবে না: নেতানিয়াহু
