বিশ্ব রাজনীতির চালিকাশক্তি বলতে এতদিন কেবল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের ত্রিমুখী প্রভাবকেই বোঝানো হতো। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে গত ৪০ দিনের সংঘাত এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখ যুদ্ধ বিশ্ববাসীর সামনে নতুন এক সমীকরণ নিয়ে এসেছে। অর্থনীতি বা প্রথাগত সামরিক সরঞ্জামে পিছিয়ে থাকলেও অদম্য মনোবল, ভৌগোলিক অবস্থান এবং কৌশলগত মারপ্যাঁচে ইরান এখন বিশ্বের ‘চতুর্থ পরাশক্তি’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
ইরান সরাসরি লড়ছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। গত এক মাসে দেশটি তার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ প্রায় সব সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে হারিয়েছে। যেকোনো সাধারণ দেশের জন্য এটি ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি হলেও ইরান অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কোনো বড় শক্তির (রাশিয়া বা চীন) সরাসরি ‘নিরাপত্তা ঢাল’ ছাড়াই তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অহং চূর্ণ করে অবশেষে তাদের আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছে। ফলে চারদিকে আজ একটাই প্রশ্ন- বিশ্বের বুকে কি নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটেছে?
ইরানকে পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনার প্রধান কারণ হলো ‘হরমুজ প্রণালি’। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহে ইরান এই রুটে যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, তা বিশ্ববাজারকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।
৪০ দিন আগেও যা অসম্ভব মনে হচ্ছিল, আজ তা বাস্তব। ইরান প্রমাণ করেছে যে, তারা মাথা নত করবে না। রাজনীতি বা যুদ্ধের শেষ যাই হোক না কেন, নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে এটি স্পষ্ট যে-অশান্ত এই বিশ্বব্যবস্থায় ইরান এখন এক অনিবার্য এবং উপেক্ষা করা অসম্ভব শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
রাজনীতি বা যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তবে সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কম দেশই এত চাপের মুখে এমন অটুট মনোবল দেখাতে পেরেছে।
ফলে, বিশ্বের ‘চতুর্থ পরাশক্তি’এখন ইরান- এ দাবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দেশটির ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে। পাল্টে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ।
যুদ্ধে কোন দেশের কত জন নিহত?
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি শেয়ার করলো হোয়াইট হাউজ
