আরব দেশগুলোকে ‘সঠিক পক্ষে’ থাকতে মোজতবা খামেনির আহ্বান

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর উদ্দেশ্যে কড়া কৌশলগত বার্তা দিয়েছে তেহরান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবের যুগ শেষের পথে, এখন সময় আঞ্চলিক শক্তির নতুন বাস্তবতা মেনে নেওয়ার। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি-র এক্সে দেওয়া সাম্প্রতিক পোস্ট ঘিরে এমন বিশ্লেষণই উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী মহলে।

খামেনি তার বার্তায় উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনারা এক অলৌকিক ঘটনা দেখছেন।' তিনি দেশগুলোকে আহ্বান জানান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে, সঠিকভাবে অনুধাবন করতে এবং 'সঠিক পক্ষে' অবস্থান নিতে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, তথাকথিত 'শয়তানদের' মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে না পড়তে।

বাহরাইনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিষয়ক সিনিয়র ফেলো হাসান আল হাসান সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এই বার্তা আসলে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর প্রতি একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত সংকেত। তার ভাষায়, তেহরান বোঝাতে চাইছে যে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটছে এবং মার্কিন আধিপত্যের দীর্ঘ অধ্যায় শেষের দিকে এগোচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক চাপের মধ্যেও টিকে থাকাকে ইরান এখানে ‘অলৌকিক’ সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক হামলা প্রতিহত করা, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার ঘটনাগুলো তেহরান নিজেদের কৌশলগত সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখছে।

আল হাসান বলেন, এসব ঘটনার পর ইরান এখন নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে দেখছে। তার মতে, তেহরান বিশ্বাস করে এই পরিস্থিতিতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে আরও প্রভাবশালী ও নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে।

খামেনি তার বার্তায় আরও উল্লেখ করেন, ইরান এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে 'যথাযথ সাড়া' প্রত্যাশা করছে, যাতে তারা তাদের ‘ভ্রাতৃত্ব ও সদিচ্ছা’ প্রদর্শন করতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই সম্পর্ক তখনই সম্ভব হবে যখন এসব দেশ সেই 'অহংকারী শক্তিগুলোকে' বর্জন করবে, যারা সুযোগ পেলেই তাদের অপমান ও শোষণ করে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই আহ্বান বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। আল হাসান মনে করেন, সংঘাত চলাকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলো খামেনির এই বার্তাকে সহজভাবে নেবে না।

তিনি বলেন, যুদ্ধের চরম সময়েও আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছিল। ফলে যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি কমে এলেও, এসব দেশ ইরানের প্রভাব বা অভিভাবকত্ব মেনে নেবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। সূত্র: সিএনএন

AS/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত