ইরানের কৌশলগত বন্দর এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর যেকোনো ধরণের হুমকির বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় তেহরান তার সামরিক সক্ষমতার সবটুকু প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে আব্বাস আরাগচি ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন একদিকে অযৌক্তিক দাবি তুলছে, অন্যদিকে ইরানের বন্দর ও জাহাজে হামলার হুমকি দিচ্ছে। এটি মূলত যুদ্ধ বিরতি নিয়ে তাদের সদিচ্ছার অভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।’
এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক দাবি। ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ অমান্য করে ওই পথে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
আরাগচি এই ঘটনার পর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। মার্কিন উসকানিমূলক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেন, ইরানের সমুদ্রসীমা বা সম্পদে আঘাত করা হলে তার পরিণাম ওয়াশিংটনের জন্য সুখকর হবে না।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আটকের এই ঘটনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে একটি নতুন ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা ও তাসনিম নিউজ।
ইরানের সস্তা ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ব্যয় বাড়িয়েছে
মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে চীনের সাথে ব্রাজিলের ঐক্য