হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আদতে একটি অচল অবস্থা বা ‘ডেডলকে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
আরাঘচি তার পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক সংকটের সামরিক সমাধান হতে পারে না। তিনি আরও লেখেন, পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় যখন শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, তখন অশুভ শক্তির প্ররোচনায় পুনরায় কোনো চোরাবালিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ক হওয়া উচিত। একই ধরনের সতর্কবার্তা তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিও উচ্চারণ করেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের জাহাজগুলোকে বের করে আনতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান শুরু থেকেই এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে। তেহরানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা সামরিক প্রচেষ্টা চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালাচ্ছে। আরাঘচির এই মন্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতি মেনে নেবে না। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সামরিক অভিযান এবং ইরানের প্রতিরোধের অনড় অবস্থানের কারণে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সত্যিই একটি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার দিকে মোড় নিচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
হরমুজে ইরানের ৭ নৌকা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, তেহরানের অস্বীকার