ভারতে মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপপ্রচার ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কন্টেন্ট তৈরির প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট’ (সিএসওএইচ)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিওই সবচেয়ে বেশি এঙ্গেজমেন্ট পেয়েছে। তিনটি বড় প্ল্যাটফর্মে এসব কন্টেন্ট দেখা বা প্রতিক্রিয়া জানানোর সংখ্যা ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে।
কাশ্মীরের ফ্রিল্যান্স মডেল সামরিন আইয়ুবের অভিজ্ঞতা এই প্রবণতার ভয়াবহতা তুলে ধরে। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সাধারণ ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ভিডিও বানানো হয়, যেখানে তাকে দেহ ব্যবসার সাথে যুক্ত দেখানো হয়। ভিডিওটি এতটাই বাস্তব মনে হচ্ছিল যে, তিনি বলেন—“এটি দেখতে এতটাই বাস্তব ছিল যে কেউ, এমনকি আমার বাবা-মাও যদি এটি দেখতেন তবে তারা সত্য বলে বিশ্বাস করতেন।”
গবেষকরা বলছেন, ডিপফেক ও ইমেজ জেনারেটর প্রযুক্তি এখন খুব সহজলভ্য হয়ে গেছে। সামান্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান দিয়েই বিদ্বেষমূলক বর্ণনাকে বাস্তবসম্মত ভিজ্যুয়ালে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে। মুম্বাই-ভিত্তিক আরএটিআই ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইন ‘মেরি ট্রাস্টলাইন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ৪৮২টিরও বেশি মামলা পরিচালনা করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশই ছিল ডিজিটালভাবে কারসাজি করা কন্টেন্ট।
গবেষকরা এই প্রবণতাকে ‘রাজনীতির পর্নোকরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম নারীদের দেহকে সাম্প্রদায়িক আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা হচ্ছে। মিম, হাস্যরস ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি ব্যবহার করে এই হয়রানিকে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে। অতীতে ‘সুল্লি ডিলস’ ও ‘বুল্লি বাই’-এর মতো ঘটনায় মুসলিম নারীদের ছবি বিকৃত করে নিলামে তোলা হয়েছিল। এআই-এর সহজলভ্যতা এখন সেই ধরণকে আরও ভয়াবহ করেছে।
এই পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এআই টুলগুলো নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণাকে আরও দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
আজাদ কাশ্মীরে বিক্ষোভে নিহত ২৪
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬