ইরানের হামলায় কাঁপলো কুয়েত-বাহরাইন

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যত নতুন সংকটের মুখে পড়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

হামলার পর বাহরাইন অভিযোগ করে, এই আক্রমণ দেশটির সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা প্রশমনের সব প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে কুয়েতও ইরানের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে তাদের সার্বভৌমত্বের ‘জঘন্য ও প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে।

এর আগে শনিবার (২৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে এই হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, ইরানের ড্রোন হামলায় ‘কিকু’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

এদিকে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও ওমানও কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশগুলো বলেছে, এ ধরনের হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি এবং চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের উল্লেখযোগ্য অংশ এই জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। যুদ্ধবিরতির পরও প্রণালিটি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে তাদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এ ধরনের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমঝোতা স্মারক ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলা প্রমাণ করে ওয়াশিংটন নিজের অঙ্গীকারের প্রতি ন্যূনতম গুরুত্বও দিচ্ছে না। একই সঙ্গে তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে আগ্রহী হলেও সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষ করে বেসামরিক এলাকা বা বিদেশি সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন