ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বা আইআরজিসিকে দেশের সীমান্তের বাইরে শত্রুর ভূখণ্ডে অভিযান চালানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি।
বুধবার (১২ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে নাকদি বলেন, নতুন আক্রমণাত্মক সামরিক নীতির আওতায় আইআরজিসিকে শত্রুর ভূখণ্ডে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনীকে এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে প্রয়োজন হলে দেশের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে শত্রুর মাটিতেও অভিযান পরিচালনা করা যায়। তাঁর ভাষায়, এটিই নতুন আক্রমণাত্মক নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
নাকদি আরও দাবি করেন, ইরানের সব অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের গতি এখন সেগুলো ব্যবহারের গতির চেয়েও বেশি। ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতাও উৎক্ষেপণের হারের তুলনায় অনেক বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বলেন, যুদ্ধ কয়েক বছর ধরে চললেও ইরান তা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। তাঁর দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুর ওপর আঘাত হানতে থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নাকদি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাজেট ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বাজেটের প্রায় একশ গুণ হলেও যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত ১৪টি লক্ষ্যই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি ইরানের কথিত সাফল্যের পেছনে ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। নাকদির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের বিজয়ের মূল শক্তি ছিল তাদের বিশ্বাসের শক্তি।
আইআরজিসির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরান তার সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন আনছে এবং নতুন নেতৃত্ব আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
ট্রাম্পকে ঘুম থেকে জাগাতে নারী ‘নিয়োগ’!
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চায় ইরান
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন