যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত সংঘাত টেনে নেওয়ার সম্ভাবনা দেখছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি এ কথা বলেছেন।
পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাকদি বলেন, ইরানের লক্ষ্য এমন প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শত্রু দেশ ইরানে হামলার সাহস না পায়। তার মতে, সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পথ হতে পারে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্ষয়যুদ্ধের চাপ বাড়ানো।
নাকদি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইরান আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে কীভাবে লড়তে হয়, সে সম্পর্কে দেশটি ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের ধারণার তুলনায় মার্কিন সামরিক শক্তি দুর্বল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ইরানের এই শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টার দাবি, ওয়াশিংটন কোনো সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়াই যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দিন পরপর যুদ্ধের নতুন নতুন লক্ষ্য ঘোষণা করেছে, এর মধ্যে খার্গ দ্বীপ দখল এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ও ছিল।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন নাকদি। তার দাবি, ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো এলাকা দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে সেটি শত্রুপক্ষের জন্য সরঞ্জাম পরিবহন করছে কি না, তা নিয়ে তেহরানের সন্দেহ থাকতে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও বড় ধরনের দাবি করেছেন তিনি। নাকদি বলেন, ইরান প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তার চেয়ে বেশি উৎপাদন করছে। এমনকি ইরানের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার যুক্তি, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে এবং সেগুলো হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
নাকদি ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাহিনীর কমান্ডারের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি দাবি করেছেন, চলমান যুদ্ধে বিজয় ইরানের পক্ষেই রয়েছে। সূত্র: সিএনএন
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন
হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প
মার্কিন-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী