যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বরজানি। কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের একজন মুখপাত্র রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র দিলশাদ শাহাব বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে বরজানির নীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। যুদ্ধের আগে, যুদ্ধ চলাকালে এবং পরবর্তী সময়েও ইরাকি কুর্দিস্তান একই অবস্থান ধরে রেখেছে বলে জানান তিনি।
শাহাব বলেন, বিভিন্ন সংঘাতের ক্ষেত্রে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার বারবার নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তাঁর দাবি, এই নীতি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরিতে সহায়তা করেছে।
কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের এক কর্মকর্তা আলাদাভাবে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-দুই দেশের সঙ্গেই বরজানির ভালো সম্পর্ক থাকায় তাঁকে বার্তা আদান-প্রদানের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, মে মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে বরজানির সহায়তা নেয়। ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও আব্বাস আরাগচি আইআরজিসির অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মে মাসের ১০ তারিখের দিকে তৎকালীন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড বরজানিকে ফোন করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অনুমোদন নিয়ে তিনি বরজানিকে আইআরজিসির কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এরপর ১৪ মে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে বরজানি ওয়াহিদির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানতে চান, ইরানের আলোচকদের অবস্থান আইআরজিসিও সমর্থন করে কি না।
অ্যাক্সিওসের উদ্ধৃত একটি সূত্রের দাবি, ওয়াহিদি জবাবে বলেন, তিনি আলোচকদের অবস্থান পুরোপুরি সমর্থন করেন এবং এটিই আইআরজিসির অবস্থান। সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতেই আইআরজিসি আগ্রহী বলেও তিনি জানান।
বরজানি এরপর ওয়াহিদির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাবার্ডকে জানান। পরে গ্যাবার্ড বিষয়টি হোয়াইট হাউসকে অবহিত করেন।
এই যোগাযোগের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের আইআরজিসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি গোপন চ্যানেল প্রতিষ্ঠার কথা নিশ্চিত করেছেন।
বরজানির কার্যালয়ের বক্তব্যে তাঁর দীর্ঘদিনের সংলাপনির্ভর কূটনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে। কুর্দিস্তান সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি সংঘাতের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ থাকার নীতিই তাঁকে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে তাড়াহুড়ো নেই ট্রাম্পের
হরমুজ ইস্যুতে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের
উপসাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র দায়ী: বাঘাই
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির সময়সীমা সমাপ্ত