হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমান সমঝোতা, বাধা যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও এ জলপথ থেকে পাওয়া রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। তবে এই সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছে বাহিনীটি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চললেও মার্কিন হস্তক্ষেপের কারণে প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার তেহরানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয় ইরান ও ওমান।

বৈঠকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি প্রণালিতে পর্যায়ক্রমে নৌ চলাচল পুনরায় চালুর জন্য একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন। পরে এক যৌথ বিবৃতিতে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি অস্থায়ী যৌথ নৌ-করিডোর চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

পাশাপাশি প্রণালিতে থাকা ল্যান্ডমাইন শনাক্ত, নিষ্ক্রিয় ও অপসারণে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী নৌ-করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং হরমুজের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

নৌ চলাচল, তথ্য বিনিময় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ আইনি কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবুসাইদি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই অস্থায়ী নৌ-করিডোর চালুর ঘোষণা আসতে পারে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী জানান, প্রস্তাবিত অস্থায়ী নৌপথের একটি অংশ পুরোপুরি ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। ওমান উপসাগর থেকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের পথটি ইরানের জলসীমায় থাকবে। তবে পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার সময় ইরান ও ওমান, দুই দেশের জলসীমাই ব্যবহার করা হবে।

অস্থায়ী নৌপথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষ করতে আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে আরও কয়েক দফা বৈঠক হতে পারে বলেও জানান তিনি।

ইরান-ওমানের এই উদ্যোগের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি ওমানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণের হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি।

তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের সাম্প্রতিক সমঝোতার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ বাস্তবে কতটা এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এএস
আরও পড়ুন