যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলে জানিয়েছে ইরান। তবে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি।
রোববার (৩০ আগস্ট) তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে ঘারিবাবাদি বলেন, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। তবে এই সমঝোতা হলেই তা সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে না।
তিনি বলেন, সমঝোতা বাস্তবায়নের আগে অপর পক্ষকে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে, নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেই ইরানও পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
ঘারিবাবাদি আরও বলেন, ইরান এখনই হরমুজ প্রণালি খুলতে তাড়াহুড়ো করছে না। দেশটি নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা চালিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার কূটনীতির পথে ফিরতে চায়, তাহলে অতীতে নেওয়া পদক্ষেপের দায়ও তাদের নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে বলেও স্পষ্ট করেছেন ইরানের এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করলে তা ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং দেশটির অনুমতি নিয়েই করতে হবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথাও উল্লেখ করেন ঘারিবাবাদি। তিনি জানান, দুই দেশই ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতার শর্তগুলো বাস্তবায়নে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করতে কাজ করেছে।
এদিকে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরানের নেতৃত্বে কট্টরপন্থী সামরিক কর্মকর্তা ও ধর্মীয় নেতাদের প্রভাব আরও বেড়েছে। দেশটির নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং একই সঙ্গে দেশের ভেতরে সম্ভাব্য অস্থিরতা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সামরিক ও নিরাপত্তা খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দিয়েছেন। নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব মোহসেন রেজাই এবং বিপ্লবী গার্ডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদি।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব নিয়োগে ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে কট্টরপন্থীদের প্রভাব আরও শক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক সাশা ব্রুখমানের মতে, নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য এখন অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখা।
অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও ইরানের ভেতরে নতুন করে বড় কোনো বিক্ষোভের লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাসিজ বাহিনীর প্রধান হিসেবে কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা হোসেইন তাইয়েবের নিয়োগকে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঠেকানোর প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
তাইয়েব অতীতে ইরানের বাসিজ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ২০০৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের পুনর্নির্বাচনের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পরে তিনি প্রায় ১৩ বছর বিপ্লবী গার্ডের গোয়েন্দা শাখার প্রধান ছিলেন।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের অবসান এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মিত্রদের মতে, অর্থনীতি যখন চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন যুদ্ধ চালিয়ে গেলে ইরান অতিরিক্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। কট্টরপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করছে। তবে রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে ইসলামিক ইউনিটি উইক উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, মুসলিমদের বিভক্তি তাদের শত্রুদের স্বার্থে কাজ করে।
বার্তায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এমন যে কেউ জেনে বা না জেনে ইসলামের শত্রুদের সহায়তা করছে বলেও মন্তব্য করেন খামেনি।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় হামলার প্রস্তুতি রাশিয়ার
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মুসলিম বিশ্বের ’প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ শত্রু : মোজতবা খামেনি
জাবালিয়ায় হামলায় ২ হামাস সদস্য নিহত, দাবি ইসরায়েলের
পশ্চিম তীরে বেড়েই চলেছে শিশু হত্যা
‘হরমুজে তেল পরিবহন স্বাভাবিক’, মার্কিন বক্তব্যে ইরানের আপত্তি