ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় ব্রিকসের নিন্দা: পেজেশকিয়ান

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার নিন্দা জানিয়েছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং সংঘাতের ক্ষেত্রে সংযমের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জোটটি বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেজেশকিয়ান বলেন, সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার বিরোধিতা প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে একতরফাবাদ, দখলদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকসের সদস্যরা।

তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। সম্মেলনে ব্রিকসের ১১টি মূল সদস্য দেশের পাশাপাশি জোটে যোগদানে আগ্রহী আরও ১০টি দেশ অংশ নেয় বলেও জানান তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, সম্মেলনের আলোচনায় স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসব লক্ষ্য কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং বিভিন্ন চাপ মোকাবিলায় দেশগুলোর সক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।

একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের বিরোধিতাও সম্মেলনে অভিন্ন অবস্থান হিসেবে উঠে এসেছে বলে জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় ইরানের যোগদানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ব্রিকসের অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। অনেক নেতা জাতীয় ও আঞ্চলিক মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো এবং পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে দখলদারিত্বের বিরোধিতা, লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন এবং ইসরায়েলের আগ্রাসনের নিন্দার বিষয়ও উঠে এসেছে বলে জানান পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং দ্বৈত মানদণ্ড ছাড়াই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, নারী, শিশু, হাসপাতাল ও বেসামরিক মানুষের সমাগমস্থলে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তার মতে, ব্রিকসের নীতিগত অবস্থান একতরফাবাদের মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে এবং জোটটির বিভিন্ন উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও জবরদস্তিমূলক নীতির কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো কমাতে সহায়ক হবে।

ব্রিকস সম্মেলন বিনিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে জানান পেজেশকিয়ান। ব্যাংকিং সহযোগিতা এবং ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক নিয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনে হওয়া আলোচনা ও সমঝোতাগুলোর পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে সদস্য ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সম্পর্ক আরও গভীর হবে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন