ইরান যুদ্ধ নিয়ে উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ এএম

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে আগামী সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আগামী মঙ্গলবার এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী মার্কিন কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এসব দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।

যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শেষে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য কাঠামো উপসাগরীয় নেতাদের সামনে তুলে ধরতে পারেন ট্রাম্প। তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর প্রকাশ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সম্ভবত শেষ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর দাবি, ইরান একটি চুক্তিতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তবে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান বা নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

উপসাগরীয় দেশগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চলমান সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার কারণে এসব দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে তেল ও গ্যাস রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এ কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জ্বালানি রপ্তানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক তৎপরতা

ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় নেতাদের সম্ভাব্য বৈঠক এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের অবসান এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প বুধবার যুদ্ধের অবসান ঘনিয়ে আসার আশা প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে আলোচনার কাঠামো বা যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা প্রকাশ্যে আসেনি।

এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ওমানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়টিও এসব কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

নেতানিয়াহুর সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহী বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। তবে এ বৈঠক এখনো নিশ্চিত হয়নি।

ফলে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে শুধু ইরান যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতিই নয়, যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত বৈঠক থেকে কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত, চুক্তি বা নির্দিষ্ট যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা ঘোষণার কথা জানানো হয়নি। বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কৌশল সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এএম
আরও পড়ুন