ইরান ও ইসরায়েল বনাম মার্কিন যুদ্ধ ছয় মাস অতিক্রম করায় গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মাত্র কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখন ভিন্ন রূপ নিয়েছে।
মার্কিন সরকারের তথ্য মতে, এ যুদ্ধে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
ডিজেলের দাম রেকর্ড গড়ে প্রতি গ্যালন ৬.২৭ ডলারে পৌঁছানোয় সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শুধু যাতায়াত ও পরিবহনে প্রথম ছয় মাসে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচের কারণে পরিবারপ্রতি গড়ে ৭৬৩ ডলার বাড়তি ঋণের বোঝা চেপেছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার ও পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি লাগাতার বিমান হামলায় মার্কিন সামরিক অস্ত্রের মজুত প্রায় তলানিতে ঠেকেছে, যা পুনরায় পূর্ণ করতে পেন্টাগনের প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগবে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ আগস্ট মাসে রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টি এই উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটকে প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩১ শতাংশে। ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির বেশ কিছু আইনপ্রণেতাও যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিরোধী দলের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ের পর প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫,০০০ ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইয়েমেন যুদ্ধের মাঝেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা
ইউক্রেন সংকটের মূলে পশ্চিমা সম্প্রসারণবাদ: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬০