হরমুজে জাহাজ চালালে চার্টারারদেরও নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

অনুমোদিত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় ঘোষণা সম্পন্ন না করে কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে বাধ্য করা হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের চার্টারার বা ভাড়াকারী প্রতিষ্ঠানকে ‘নিয়ম না মানা’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। একই সঙ্গে ওই চার্টারারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে জাহাজ, মালিকপক্ষ ও নাবিকেরা আর্থিক ও শারীরিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু জাহাজের মালিক বা মাস্টারের নয়; চার্টারারদের নির্দেশনাও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে কোনো চার্টারার যদি বাণিজ্যিক স্বার্থে জাহাজকে অনুমোদনহীন পথে চলার নির্দেশ দেয়, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

জাহাজমালিকদের ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি

কর্তৃপক্ষ একটি নাম প্রকাশ না করা জাহাজের মালিকপক্ষের একটি চিঠিও প্রকাশ করেছে। ওই চিঠিতে অনুমোদন ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে জাহাজটির মালিকপক্ষ দাবি করেছে, প্রয়োজনীয় ঘোষণা ও অনুমোদন সম্পন্ন না করেই জাহাজটিকে হরমুজ অতিক্রমের নির্দেশ দিয়েছিল চার্টারার। বাণিজ্যিক চাপের কারণে জাহাজের মাস্টারকে সেই নির্দেশ মানতে হয়েছিল বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এর মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষ মূলত বোঝাতে চেয়েছে, জাহাজের মাস্টার বা নাবিকেরা সব সময় নিজেদের সিদ্ধান্তে অনুমোদনহীনভাবে চলাচল করেন না; কখনো কখনো চার্টারারের বাণিজ্যিক নির্দেশও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

আরও কঠোর হচ্ছে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধাপে ধাপে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করছে। দেশটির পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজকে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা বা সংশ্লিষ্ট বীমা সুরক্ষা দেওয়া হবে না।

আগস্টে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজ ভবিষ্যৎ যাত্রায় জরিমানা, আটক বা জব্দের মতো ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত জাহাজের সঙ্গে জাহাজ-থেকে-জাহাজে পণ্য স্থানান্তর বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতায় যুক্ত জাহাজকেও ওই তালিকায় যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।

সেপ্টেম্বরেও কর্তৃপক্ষ ওই তালিকা হালনাগাদ করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, নিয়ম না মানা জাহাজগুলোর ভবিষ্যৎ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।

চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের এক পর্যায়ে দিনে মাত্র দুটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছিল, যেখানে সংঘাতের আগে দৈনিক গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত।

ফলে হরমুজে চলাচলের অনুমোদন, নিরাপত্তা ও বীমা নিয়ে ইরানের নতুন বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক জাহাজমালিক, চার্টারার, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে ইরানের এসব বিধিনিষেধের বাস্তব প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কতটা তা মেনে চলছে, তা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত। তাই কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা ও সতর্কতাগুলোকে ইরানের নিজস্ব অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এ অবস্থায় অনুমোদন ছাড়া হরমুজ অতিক্রমের ক্ষেত্রে শুধু জাহাজের মালিক বা মাস্টার নয়, চার্টারারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান প্রণালিটির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করার বার্তা দিয়েছে।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত