বন্ধ মসজিদে শত শত ইসরায়েলি নিয়ে ঢুকলেন বেন-গভির

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইব্রাহিমি মসজিদে শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীকে নিয়ে ঢুকে পড়েছেন দেশটির চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা ঘটে।

এর আগের দিন সোমবার তিনি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের স্পর্শকাতর আল-আকসা মসজিদ চত্বরেও জোর করে ঢুকেছিলেন। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কোত রোববার শুরু হয়েছে, চলবে শনিবার পর্যন্ত।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪ মসজিদে বেন-গভিরের ঢোকার ভিডিও সম্প্রচার করেছে। বহু বছর ধরে হেবরনের বসতিতে বাস করা এই মন্ত্রী চ্যানেলটিকে বলেন, ‘ইব্রাহিমি মসজিদে এলে আমি এমন শক্তি পাই, যাতে গান গাইতে ও আনন্দ করতে ইচ্ছা করে।’ সাক্ষাৎকারের সময় তাঁর পেছনে শত শত বসতি স্থাপনকারীকে দেখা গেছে।

সোমবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, সুক্কোতের সময় মসজিদটি মুসলিম মুসল্লিদের জন্য বন্ধ থাকবে। ফিলিস্তিনের ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই বন্ধের মধ্যে নামাজ ও আজান নিষিদ্ধ করাও রয়েছে। ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের সময় বসতি স্থাপনকারীদের মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপ ইব্রাহিমি মসজিদের পবিত্রতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং মুসলমানদের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকারের লঙ্ঘন। মসজিদটি ‘একান্তভাবেই ইসলামি ওয়াকফ সম্পত্তি’ বলেও জানায় তারা। ইসরায়েল এসব পদক্ষেপ চালিয়ে গেলে এবং মসজিদে সময় ও স্থানভিত্তিক বিভাজন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।

বিভক্ত মসজিদ

হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত মসজিদটি পুরোপুরি ইসরায়েলি দখলদারির অধীন এলাকায় পড়েছে। সেখানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি সেনার পাহারায় প্রায় ৪০০ বসতি স্থাপনকারী বাস করেন।

১৯৯৪ সালে একজন ইহুদি বসতি স্থাপনকারী মসজিদে ২৯ ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে হত্যা করেন। এরপর ইসরায়েল মসজিদটি ভাগ করে ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের জন্য বরাদ্দ করে। ইসরায়েলের একতরফা ব্যবস্থায় ইহুদি ধর্মীয় উপলক্ষে বছরে ১০ দিন মসজিদটি মুসলমানদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ থাকে। ইসলামি ধর্মীয় উপলক্ষে ১০ দিন ইহুদিদের জন্যও একইভাবে বন্ধ রাখা হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মুসলমানদের ধর্মীয় উপলক্ষেও মসজিদটি পুরোপুরি খোলা হয়নি।

ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন অন্তত সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন। পরে ইসরায়েল বাকি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী সেখান থেকে সরে আসা এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা তারা এখনো প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

এটিটিআর
আরও পড়ুন