লেবাননের সবচেয়ে বড় কারাগারে প্রায় ৪০০ বন্দি টানা ১৮ দিন ধরে অনশন করছেন। সাধারণ ক্ষমার আইন স্থগিতের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই অনশনে অংশ নেওয়া কয়েক ডজন বন্দির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই অ্যাম্বুলেন্সে করে অসুস্থ বন্দিদের কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক লেবাননি আইনজীবী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আইনজীবী মোহাম্মদ সাবলুহ বলেন, অনশনরত বন্দিরা খাবার, পানি ও ওষুধ গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছেন। তার ভাষায়, তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাবলুহ ত্রিপোলি আইনজীবী সমিতির বন্দিদের অধিকারবিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালকও।
রাজধানী বৈরুতের কাছে রুমিয়েহ কারাগারে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এই অনশন শুরু হয়। সাধারণ ক্ষমার আইন স্থগিতের প্রতিবাদেই বন্দিরা এই কর্মসূচি নিয়েছেন। আইনটি কার্যকর হলে কিছু বন্দির তাৎক্ষণিক মুক্তি কিংবা সাজা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারত।
আইনটি স্থগিতের প্রতিবাদে লেবাননের সুন্নি-অধ্যুষিত ত্রিপোলি শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। অনশনরত বন্দিদের অধিকাংশই সুন্নি সম্প্রদায়ের। তাদের অনেককে সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে চলা বিদ্রোহের প্রতি সংহতি প্রকাশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক দশকের বেশি সময়ের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
লেবাননের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্ট সাধারণ ক্ষমার আইন নিয়ে সাংবিধানিক কাউন্সিলে আপিল করেছে। দলটির উদ্বেগ, কিছু বন্দির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, লেবাননের সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং বোমা হামলার পরিকল্পনার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিজবুল্লাহ প্রথমদিকে সাধারণ ক্ষমার আইনকে সমর্থন করেছিল। তবে পরে দলটির রাজনৈতিক শাখা বিলটির পক্ষে ভোট দেয়নি। কারণ, সুন্নি বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। এসব বন্দির অনেকেই সিরিয়ার যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন।
ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ সিরিয়ার যুদ্ধে আসাদ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং তাকে সমর্থন দিতে হাজার হাজার যোদ্ধা পাঠিয়েছিল।
সাধারণ ক্ষমার আইন নিয়ে সাংবিধানিক কাউন্সিল আগামী মাসে রায় দিতে পারে।
এদিকে লেবাননের কারাগারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত বন্দির চাপ রয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে ৬ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে হাজারো বন্দি বিচার ছাড়াই বছরের পর বছর আটক রয়েছেন। গত ১২ আগস্ট পাস হওয়া সাধারণ ক্ষমার আইনটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল কারাগারগুলোর এই অতিরিক্ত চাপ কমানো।
সাবলুহের দাবি, লেবাননের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা ৩৩০ শতাংশেরও বেশি। তার মতে, কারাগারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ যে সাধারণ ক্ষমার আইন স্থগিতের মতো কোনো বড় পরিবর্তনের ধাক্কা সামলানোর অবস্থায় এগুলো নেই।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে লেবাননের কারাগারে ৪০ জনের বেশি বন্দি মারা গেছেন। তাদের কেউ চিকিৎসায় অবহেলায়, কেউ নির্যাতনে এবং কেউ দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার কারণে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বন্দিদের দীর্ঘ সময় আটক থাকার পেছনে বিচারিক বিলম্বকেও দায়ী করেছেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিচারপূর্ব আটক রাখার নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে দুই মাস, যা সমপরিমাণ সময় বাড়ানো যায়; আর গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ছয় মাস, যা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত করা যায়। তবে এই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। সূত্র: আলজাজিরা
বৈশ্বিক নিরাপত্তায় হরমুজের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: পেজেশকিয়ান
শত্রুর মোকাবিলায় যত ক্ষেপণাস্ত্র দরকার ছুড়বে ইরান: আইআরজিসি
সেনা প্রত্যাহারের পরও ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে