ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে নতুন নতুন ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির এক আইনপ্রণেতা। একই সঙ্গে ইরান এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মতো ব্যবহার করতে পারে, যা বিশ্বকে বিস্মিত করবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও কাউন্সিলবিষয়ক কমিটির সদস্য রুহোল্লাহ মুসাভি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এ সতর্কবার্তা দেন।
মুসাভির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর নতুন কোনো মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রতিক্রিয়া শুধু ইরানের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও অবস্থানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরান প্রয়োজনে এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে, যেগুলো এর আগে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি। এসব অস্ত্রের সক্ষমতা বিশ্বকে বিস্মিত করতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিনি কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলেছেন বা সেগুলোর নির্দিষ্ট সক্ষমতা কী—তা বিস্তারিত জানাননি।
মুসাভির এই মন্তব্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা একাধিকবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাব আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা মার্কিন স্বার্থ বা মিত্রদেরও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ইরানের সেনাবাহিনীও সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে মার্কিন আগ্রাসন হলে এবার আগের চেয়েও বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, প্রায় ৯ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা এবং তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। এর ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলের বক্তব্যে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা মিত্রদের লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়া জানায়, তাহলে চলমান সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
তবে মুসাভির বক্তব্য ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধপরিকল্পনা বা সামরিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা কি না, তা স্পষ্ট নয়। তিনি একজন পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুমকির পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও একই সময়ে এগিয়ে চলছে।
ক্রিকেটের নিয়মে 'বড় পরিবর্তন' আনলো আইসিসি
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর কে এই শেখ নূর
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নাকচ করলেন পুতিন
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার ওয়্যারহাউস সিলগালা
সরকারি ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের তথ্য গোপন করেছে ওপেনএআই!