যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলেও আলোচনার টেবিল থেকে সরে যাবে না ইরান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রতিবারই নতুন হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে তেহরানকে। তবু সংঘাতের অবসান এবং ইরানের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে তার দেশ।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তুর্কমেনিস্তানের তুর্কমেনবাশিতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথের শীর্ষ সম্মেলন এবং কাস্পিয়ান সাগরবিষয়ক পরিবেশ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার এই বৈঠক হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় উভয় পক্ষ থেকেই প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে। তেহরান সেসব প্রস্তাবে নিজেদের সংশোধনীও যুক্ত করেছে। প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিষয়টি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ইরানের।
তিনি বলেন, ইরানের লক্ষ্য সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে দেশটির জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফা নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, ওয়াশিংটন অন্য দেশগুলোর ওপর নিজেদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিতে এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তার মতে, বিশ্ব ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দেশগুলোকে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে।
এ সময় রাশিয়ার অবস্থানের প্রশংসা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু এবং জাতিসংঘে মস্কোর ভূমিকার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, একতরফা আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা মোকাবিলায় দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে মিল রয়েছে।
তেহরান ও মস্কোর সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে পেজেশকিয়ান বাণিজ্য, অর্থনীতি ও দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্মত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদ্যমান সমন্বয় আরও জোরদার হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে পুতিন বলেন, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে বহু কৌশলগত কর্মসূচি ও নীতিগত বিষয়ে মিল রয়েছে এবং দিন দিন দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আঞ্চলিক সংকট কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংকটের সূত্রপাতের জন্য ইরান দায়ী নয়, অথচ এখন বহু দেশ কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করছে। সংঘাতের অবসানে ইরানও নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংকট সমাধানে রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে পুতিন বলেন, কূটনৈতিক পথে সমাধান খুঁজতে মস্কো সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। জ্বালানি, কৃষি, পরিবহন ও বাণিজ্য খাতে যৌথ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন দুই নেতা। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারেও ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: প্রেস টিভি
'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা ছিলেন অবিচল'
তুর্কমেনিস্তানে পুতিন-পেজেশকিয়ান বৈঠক
ইমাম মাহদীর দ্রুত আগমন কেন চাইছেন মোজতবা খামেনি?