'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা ছিলেন অবিচল'

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও অবদানের প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনে অবিচল ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটির ভূমিকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম, দুর্গম সীমান্ত, পাহাড়, সমুদ্র, সমতল ও বনাঞ্চল, দেশের সর্বত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা ও নিরলস পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁর ভাষায়, পুলিশ বাহিনী ইরানের নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম দৃঢ় স্তম্ভ।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, নিরাপত্তা মানুষের সামাজিক ও নৈতিক কল্যাণের পাশাপাশি জনজীবনের সার্বিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করে। এ দায়িত্ব পালন সৃষ্টিকর্তার পথে এক ধরনের জিহাদ এবং এর প্রতি সমাজের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন থানা ও চৌকিতে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের অবদান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকার গুরুত্ব আরও প্রকট হয়েছে।

মোজতবা খামেনি অভিযোগ করেন, অপরাধী যুক্তরাষ্ট্র-ইহুদিবাদী শত্রুপক্ষ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে হামলা চালিয়েছে। বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সম্মুখসারিতে দায়িত্ব পালনকারীরাও এসব হামলার লক্ষ্য হয়েছেন। তবে সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালানো এসব হামলা পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা তাদের কর্মস্থল ও দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে যেভাবে কাজ করতেন, হামলার মধ্যেও রাস্তাঘাটে ও যানবাহনে দায়িত্ব পালন করে গেছেন একইভাবে। এ কারণে ইরানের জনগণ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ।

পুলিশের প্রতি জনআস্থা আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মতো পুলিশ সদস্যরাও সমাজের ভেতর থেকেই উঠে এসেছেন। তাদের আচরণে আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলন ঘটলে জনগণের সঙ্গে বাহিনীর সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের অবদান অনেক সময় স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হলেও তাদের এই অবমূল্যায়ন সৃষ্টিকর্তার কাছে পুরস্কার আরও বাড়িয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জনবল, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের আহ্বান জানান মোজতবা খামেনি। বিশেষ করে তথ্য বিশ্লেষণে পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো হলে বাহিনীর কাজের দক্ষতা উন্নত হবে এবং দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া সহজ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বার্তার শেষাংশে পুলিশ বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সর্বোচ্চ নেতা। বিশেষ করে বাহিনীর সাহসী, পরিশ্রমী ও বিচক্ষণ প্রধানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইমাম মাহদির আবির্ভাব ত্বরান্বিত হওয়ার প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তিনি আশা করেন, ইসলামি ইরানের নিরাপত্তা, শক্তি ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধিতে পুলিশ বাহিনী ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জন করবে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি 

এএস
আরও পড়ুন