‘তোমাদের নতজানু হতে হবে’, মার্কো রুবিওকে লক্ষ্য করে গালিবাফের বার্তা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

বিশ্বের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রাচীন সভ্যতাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা শক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত অপমান ও পরাজয়ের মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ঐতিহাসিক আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ও রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, যারা আলেকজান্ডারের উত্তরাধিকার অনুসরণ করতে চায়, তাদের পরিণতিও হবে ভ্যালেরিয়ানের মতো।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইতিহাসজুড়েই ইরানিরা এমন শক্তির মুখোমুখি হয়েছেন, যারা নিজেদের বিশ্বের অধিপতি বলে দাবি করেছে এবং প্রাচীন সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে।

তিনি লেখেন, “তারা আগুন আর শিখা নিয়ে এসেছিল, কিন্তু ফিরে গেছে ধুলো ও লজ্জা নিয়ে। যারা আলেকজান্ডারের উত্তরাধিকার অনুসরণ করছে, তাদের পরিণতি হবে ভ্যালেরিয়ানের মতো—তোমাদের নতজানু হতে হবে।” 

রুবিওর বক্তব্য ঘিরে তেহরানের প্রতিক্রিয়া

গালিবাফের এ মন্তব্যের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। গ্রিস সফরে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা ও আধুনিক পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে ধারাবাহিকতার ধারণা তুলে ধরে রুবিও যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আপত্তি জানান বাঘাই।

ইরানের এই মুখপাত্রের অভিযোগ, রুবিও ইতিহাসের নির্বাচিত কিছু অংশ তুলে ধরে পশ্চিমা শক্তি ও জাতীয় ক্ষমতার ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, প্রাচীন গ্রিক দর্শনে শুধু শক্তি ও গৌরবের আলোচনা ছিল না; বরং সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা, অহংকার, আগ্রাসন এবং ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা রয়েছে।

বাঘাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিহাসকে বর্তমানের সামরিক নীতি বা শক্তি প্রয়োগের পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করলে অতীতের জটিলতা আড়াল হয়ে যায়। তিনি পশ্চিমা চিন্তাবিদদের ইতিহাস ও নিজস্ব সভ্যতার দার্শনিক বৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। 

কেন ভ্যালেরিয়ানের প্রসঙ্গ টানলেন গালিবাফ?

গালিবাফের বক্তব্যে ব্যবহৃত ভ্যালেরিয়ান ছিলেন রোমান সম্রাট, যিনি ২৬০ খ্রিষ্টাব্দে সাসানীয় পারস্যের রাজা প্রথম শাপুরের হাতে বন্দি হন। রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসে ঘটনাটি একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে পারস্য সাম্রাজ্য জয় করে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গালিবাফের বক্তব্যে আলেকজান্ডারের নাম এসেছে বিজয় ও সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রতীক হিসেবে, আর ভ্যালেরিয়ানের পরিণতি ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে পরাজয় ও অপমানের ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে। 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় ঐতিহাসিক বার্তা

গালিবাফ ও বাঘাইয়ের বক্তব্যে ইতিহাস, সভ্যতা ও সামরিক শক্তির প্রশ্নটি সামনে এসেছে। তেহরানের এই বার্তাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রদর্শন ও সামরিক নীতির সমালোচনার পাশাপাশি ইরানের ঐতিহাসিক পরিচয় এবং প্রতিরোধের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অবস্থান ও হুঁশিয়ারির অংশ। এগুলোকে ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতের ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

এমএজেড
আরও পড়ুন