মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদ লুটতে চায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: আইআরজিসি উপদেষ্টা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বালালি। তার দাবি, প্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের জনগণ আরও সক্ষম ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক, তা চায় না ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা। বরং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি ও পকেট ভারী করাই তাদের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে নতুন ইসলামী সভ্যতার বিকাশ ঠেকাতে পশ্চিমা শক্তিগুলো তৎপর বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন বালালি। তিনি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বালালি বলেন, সভ্যতার প্রকৃত বিকাশ ঘটেছে প্রাচ্যে, পশ্চিমা শক্তিগুলোর নিজস্ব কোনো সভ্যতা নেই। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন একটি ইসলামী সভ্যতার উত্থান ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বালালি বলেন, ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তার দাবি, প্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হোক কিংবা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াক, এমনটা পশ্চিমা শক্তিগুলো চায় না। বরং প্রাচ্যের সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতেই তারা আগ্রহী।

পশ্চিমা শক্তিগুলোর ঐতিহাসিক ভূমিকার সমালোচনা করে বালালি বলেন, আমেরিকা মহাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং আফ্রিকার মানুষের ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলো নিজেদের ক্ষমতা গড়ে তুলেছে। এ প্রসঙ্গে ফ্রান্স ও বেলজিয়ামসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করেন তিনি। তার অভিযোগ, এসব শক্তি একদিকে শান্তি ও ন্যায়বিচারের কথা বলে, অন্যদিকে নিজেরাই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থেকেছে।

বালালি আরও বলেন, বিশ্বব্যবস্থাকে ইসলামী সভ্যতাভিত্তিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করছে পশ্চিমা শক্তিগুলো। তবে শেষ পর্যন্ত তারা এ পরিবর্তন ঠেকাতে পারবে না বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক হুমকির প্রেক্ষাপটে বালালির এসব বক্তব্য এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল ট্রাম্প ইরানে বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়ে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কয়েক দিন পর, ৭ এপ্রিল তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান তার দাবি মেনে না নিলে একটি পুরো সভ্যতা সেদিন রাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এসব বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা ও সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন