ইরানে স্থল হামলা চালালে মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি। তার ভাষ্য, সম্ভাব্য এমন অভিযানে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা ইরানি বাহিনীর হাতে আটক হবে। একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আত্মসমর্পণ করে সাদা পতাকা তোলা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তব্যে নাকদি বলেন, ইরানে স্থল অভিযান চালানোর সাহস যুক্তরাষ্ট্রের নেই। ওয়াশিংটনের সবচেয়ে কট্টরপন্থী কর্মকর্তারাও জানেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক মাস পর দেশটিতে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ইরানে স্থল হামলার সম্ভাবনা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠকগুলোতে এ বিষয়ে বাস্তব কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলে দাবি করেন নাকদি। তিনি বলেন, আমেরিকার একান্ত ব্যক্তিগত বৈঠকগুলোতেও স্থল হামলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। গণমাধ্যমে প্রচারণার অংশ হিসেবে এ বিষয়ে কথা বলা হলেও গোপনে, এমনকি একে অপরের কানে কানে বলার সময়ও তারা স্থল হামলার কথা বলেনি। কারণ, এমন পদক্ষেপের পরিণতি সম্পর্কে তারা জানে।
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানকে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন আইআরজিসি প্রধানের এই জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দশক আগে শুরু হওয়া ওই অভিযানগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাত ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও শেষ পর্যন্ত সেগুলো তিক্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
নাকদির প্রশ্ন, ইরাক ও আফগানিস্তানে অভিযানের অভিজ্ঞতার পর ইরানে স্থল হামলার সিদ্ধান্ত নিতে কোন হিসাবি ব্যক্তি রাজি হবেন? তার মতে, ইরানে স্থল অভিযান চালালেও যুক্তরাষ্ট্রের পরিণতি একই রকম হবে। এ ধরনের অভিযানে মার্কিন সেনাদের ব্যাপকভাবে আটক হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটনকে আত্মসমর্পণে বাধ্য হতে হবে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেছেন এই ইরানি কমান্ডার। তার দাবি, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো পারস্য উপসাগরের জলসীমায় অবস্থান করলেও ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও রসদ সরবরাহকেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি যেতে পারেনি।
নাকদি বলেন, গত ১০০ বছর ধরেই পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা পিছু হটেছে এবং এক হাজার কিলোমিটারের মধ্যেও আসতে পারছে না। কারণ, ইরানের কাছাকাছি এলে তাদের কী পরিণতি হতে পারে, তা তারা জানে।
ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে নাকদি তার বক্তব্যে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা ও অতীত অভিযানের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ২০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণ কিংবা মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকে স্থল অভিযান নিয়ে আলোচনা না হওয়ার বিষয়ে তার দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: ডন
লস অ্যাঞ্জেলেস ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের বুলি: ইরান
'যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে'
ইরানে নিজ বাড়ির বাইরে গুলিতে নিহত নারী বাসিজ কমান্ডার