ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশের আকাশে সৌদি আরবের একটি ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার দাবি করেছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত করা হলে সেটি সরাসরি হামলার শিকার হয় এবং শেষ পর্যন্ত ইয়েমেনের আকাশসীমা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে এক বিবৃতিতে এ কথা জানান হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি। তাঁর দাবি, সৌদি যুদ্ধবিমানটি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক অভিযান চালানোর সময় আঘাতের শিকার হয়। বিমানটি সৌদি আরবের তায়েফে অবস্থিত কিং ফাহদ বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল বলেও জানান তিনি।
তবে যুদ্ধবিমানটি পুরোপুরি ভূপাতিত হয়েছে, নাকি আঘাত পাওয়ার পর ইয়েমেনের আকাশসীমা থেকে সরে গেছে, বিবৃতিতে দেওয়া বর্ণনায় এ বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ ঘটনার বিষয়ে কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার গভীর রাতে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় হুদাইদা প্রদেশের আল-মারাওয়িয়াহ জেলার আল-কাতায় এলাকায় একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায় সৌদি যুদ্ধবিমান। ওই হামলায় হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের রাজধানী সানার ওপর যেকোনো হামলার কঠোর ও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী। তাদের বক্তব্য, সানাকে লক্ষ্য করে সৌদি হামলা হলে তার প্রতিক্রিয়া রিয়াদেও পৌঁছাতে পারে।
গত ২০ জুলাই সানা-ভিত্তিক প্রশাসন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানায়। ইয়েমেনের ওপর প্রায় ১২ বছর ধরে চলা অবরোধকে অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক আখ্যা দিয়ে এর প্রতিক্রিয়ায় ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তারা। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী।
২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনে অবরোধ আরোপের পাশাপাশি ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ সামরিক, রাজনৈতিক ও রসদসংক্রান্ত সহায়তা দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতে ইয়েমেনে কয়েক দশ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে সৌদি আরবের ঘোষিত লক্ষ্য, নিজেদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, এখনো অর্জিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি
'বোমা-মিসাইল দিয়ে ইরানি জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না'
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ হতে দেবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
মদিনায় হামলার সৌদির দাবি ‘ডাহা মিথ্যা’: ইয়াহিয়া সারি