যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ হতে দেবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

ইরানের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করে এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে, তা বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, উৎপাদক, রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় ইরান তার জনগণের প্রয়োজন মেটাবে এবং শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাবরিজে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিষদের এক সভায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান।

তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ ইরানের জনগণের সেবা করার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে সম্ভাব্য সবকিছু করছে। তাদের প্রত্যাশা, এর ফলে সামাজিক বিক্ষোভ দেখা দেবে এবং সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অশুভ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। তবে দেশের উৎপাদক, রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তাদের সমর্থন নিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে দেবে না বলে জানান তিনি।

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জনগণের সহযোগিতায় সব ধরনের উপায় কাজে লাগিয়ে দেশের প্রয়োজন মেটানো হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে সরকারি কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, স্থানীয় সমস্যার সমাধানের জন্য প্রদেশগুলোকে কেবল রাজধানী তেহরানের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না; নিজ নিজ অঞ্চলের সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদেরও প্রশংসা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। শত্রুপক্ষের হামলার মুখে তাঁদের প্রতিরোধকে তিনি বড় ও দীর্ঘস্থায়ী কৃতিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, এত ব্যাপক হামলার মুখেও ইরানি বাহিনী এভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে, তা কেউ প্রত্যাশা করেনি। নানা প্রতিকূলতা ও ঘাটতি সত্ত্বেও দেশের প্রতিরক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় তিনি তাঁদের প্রত্যেকের জন্য গর্বিত।

জনসংহতি ভাঙার প্রচেষ্টা ব্যর্থ

বৃহস্পতিবারই (১৫ অক্টোবর) তেহরানে নার্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। সেখানে তিনি বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যাগুলোকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় সংহতি দুর্বল করার প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছেন দেশটির জনগণ।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিদ্যমান অসংগতি ও নানা সংকটের কারণে ইরানের ওপর হামলা হলে সমাজ ভেঙে পড়বে বলে প্রতিপক্ষ আশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে জনগণ ঐক্য ধরে রেখে সেই প্রত্যাশা পূরণ হতে দেয়নি।

পেজেশকিয়ান বলেন, হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের পর ধারাবাহিকভাবে তৈরি হওয়া সংকটগুলোকে কাজে লাগিয়ে ইরানের জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাতিগত ও নারী-পুরুষের বিভাজন উসকে দেওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষ।

ইরানের বিদ্যুৎ-সংকট, পানির সমস্যা, বাজেটের ভারসাম্যহীনতা, পেনশনসংক্রান্ত জটিলতা ও পরিবেশগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও জনগণ দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে এবং বিভেদ সৃষ্টির পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছে।

তবে পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ ছড়ানোর চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং জনগণের প্রয়োজন পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন