নার্সদের ফেরেশতাদের সঙ্গে তুলনা করলেন মোজতবা খামেনি

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নার্সদের ফেরেশতাদের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, রোগীর পাশে থেকে সেবা, সান্ত্বনা ও আশার জোগান দেন তাঁরা। তাঁদের দায়িত্ব শুধু রোগীর শারীরিক সুস্থতায় সহায়তা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানসিক ও আত্মিক কষ্ট লাঘব করে হতাশা কাটিয়ে উঠতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নার্সরা। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তাদের নার্সদের পেশাগত দক্ষতা, মর্যাদা ও কর্মস্পৃহা বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতনি হজরত জয়নাব (রা.)-এর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় নার্স দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি। হজরত জয়নাবের ধৈর্য, সাহস, সহমর্মিতা ও নির্যাতিত মানুষের প্রতি মমত্ববোধের আদর্শ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরানের নার্সদের সেবামূলক কাজের মধ্যেও এসব মানবিক গুণের প্রতিফলন দেখা যায়।

বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় পণ্ডিত ও ত্রাণকর্মীদের মতো নার্সরাও মানুষের মনে আশা জাগিয়ে তোলেন। অসুস্থতা ও যন্ত্রণায় থাকা রোগীদের অস্থিরতা ও মানসিক কষ্টের সময়ে তাঁরা সান্ত্বনা দেন, আশাবাদী হতে সহায়তা করেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যেতে সাহস জোগান। এ কারণেই নার্সদের ফেরেশতাদের সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, রোগীর পরিচর্যায় নার্সদের নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি, মনোযোগ ও ধৈর্য প্রয়োজন। চিকিৎসকের দায়িত্বের সঙ্গে নার্সের কাজের পার্থক্য থাকলেও রোগীর পাশে থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দেওয়ার কারণে তাঁদের ভূমিকা শারীরিক চিকিৎসার বাইরেও বিস্তৃত। রোগীর মানসিক ও আত্মিক কষ্ট লাঘব এবং হতাশা থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে নার্সদের আন্তরিক সেবা বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কেবল চিকিৎসার মাধ্যমে যা অর্জন করা সম্ভব হয় না, অনেক সময় নার্সদের সহমর্মিতা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে তা সম্ভব হয়।

হজরত জয়নাবের জীবন ও আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মোজতবা খামেনি ইরানের নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন ও বিপ্লবের সূচনালগ্ন থেকেই ইরানের ইতিহাসে হজরত জয়নাবের আদর্শে অনুপ্রাণিত নারীদের সক্রিয় ভূমিকার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘তৃতীয় পবিত্র প্রতিরক্ষা’ পর্বে এই অংশগ্রহণ ব্যাপ্তি ও গুরুত্ব, উভয় দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য মাত্রা পেয়েছে।

মোজতবা খামেনি বলেন, বর্তমানে ইরানের নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে শহর ও গ্রামের জনসমাগমস্থলে তাঁদের উপস্থিতি এবং সামরিক যুদ্ধের সম্মুখসারির পেছনে তাঁদের বক্তব্য ও প্রতিরোধের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তাঁর দাবি, ইরানি জনগণের ওপর দুর্ভোগ ও নিপীড়ন চাপিয়ে দিতে তৎপর শক্তিগুলো নারীদের এই বিস্তৃত অংশগ্রহণ মোকাবিলা করতে পারছে না।

বার্তায় ইরানের ওপর চাপ ও বিধিনিষেধ আরোপের জন্য ‘বিশ্ব আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর অশুভ নেটওয়ার্ককে’ দায়ী করেন সর্বোচ্চ নেতা। তাঁর অভিযোগ, স্বাধীনচেতা ও প্রতিরোধী জাতিগুলোর ওপর নিপীড়ন ও অপরাধ চালানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ সৃষ্টি করে এসব শক্তি বিশেষ করে ইরানি জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতিতে নার্সদের প্রয়োজন পূরণ, তাঁদের পেশাগত সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করা এবং জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মোজতবা খামেনি। পাশাপাশি তাঁদের মনোবল, কাজের প্রেরণা ও পেশাগত মর্যাদা বজায় রাখা এবং আরও উন্নত করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে বেসরকারি নয়, এমন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্সদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ সমাজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তাদের এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বার্তার শেষাংশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং ১৪০৪ সালের দেই মাসে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সংঘটিত অস্থিরতার সময় নিহত নার্সদের স্মরণ করেন মোজতবা খামেনি। নার্সিং পেশার সঙ্গে যুক্ত নিহত ব্যক্তিদের জন্য সৃষ্টিকর্তার করুণা কামনা করে তিনি ইরানি জাতির আরও সম্মান ও শক্তি অর্জনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। সূত্র: প্রেস টিভি

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত