ইরানের জানফাদা: শত্রুর সামনে মানবপ্রাচীর

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আবারও সংঘাত শুরুর আশঙ্কার মধ্যে দেশজুড়ে বেসামরিক মানুষকে সংগঠিত করার উদ্যোগ জোরদার করছে ইরান। জানফাদা নামে এই কর্মসূচিতে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবী নিবন্ধন এবং বিভিন্ন শহরে সমাবেশের আয়োজন চলছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রাষ্ট্র ও ইসলামি বিপ্লবের সুরক্ষায় জনগণকে প্রস্তুত করাই এর লক্ষ্য। তেহরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচিটি রাজধানী থেকে ছড়িয়ে দিতে চায় দেশটির ৩১টি প্রদেশে। তবে এই জনমোবিলাইজেশন ভবিষ্যৎ সংঘাতে কী ভূমিকা রাখবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জানফাদার ভয়ংকর রূপ দেখবে শত্রুরা

ইরানের জানফাদা কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় ভূমিকা রাখার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত বাসিজ মিলিশিয়া বিভিন্ন শহরে প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিচালনা করছে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবীদের অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় জনগণকে সংগঠিত করা এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কার মধ্যে কর্মসূচিটির বিস্তার ঘটছে। তবে জানফাদার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

জানফাদার কাজ কী হবে?

জানফাদা শুধু অস্ত্র প্রশিক্ষণের কর্মসূচি নয় বলে দাবি করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবীদের ভবিষ্যতে উদ্ধার অভিযান, সামাজিক সেবা এবং গণমাধ্যম ও আর্থিক সহায়তার কাজেও যুক্ত করার কথা জানিয়েছে আয়োজকেরা। যুদ্ধ, নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপে জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সম্পদের ওপর চাপ কমাতে নাগরিকদের ব্যবহার কমানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।

আইআরজিসির লোরেস্তান প্রদেশের কমান্ডার নেমাতোল্লাহ বাঘেরি বলেছেন, জনগণকে বোঝানো এই কর্মসূচির লক্ষ্যগুলোর একটি যে সরকার যেমন তাদের পাশে রয়েছে, তেমনি তারাও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও ইসলামি বিপ্লবের পাশে রয়েছে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জানফাদার লক্ষ্য নিরাপত্তা প্রস্তুতির পাশাপাশি জনসমর্থন ও জাতীয় সংহতি তুলে ধরা।

ইরানজুড়ে প্রতিরোধের আগুন, জানফাদায় ঐক্য

তেহরান, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমান, মাশহাদ, আহভাজসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে জানফাদার আওতায় সমাবেশ ও মহড়া হয়েছে। বাসিজের প্রশিক্ষণবিষয়ক উপপ্রধান আলি কাউসারি জানিয়েছেন, তেহরানের অন্তত ১৪টি প্রধান চত্বরকে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রাদেশিক রাজধানীতে এক থেকে তিনটি প্রধান চত্বর ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দিস্তান প্রদেশের রাজধানী সানানদাজে আয়োজিত একটি সমাবেশকে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিম শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের ঐক্যের প্রদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে এসব আয়োজনকে পুরো ইরানি সমাজের ঐক্যের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের শব্দ ও সড়ক আটকে রাখার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির খবরও এসেছে।

ইরানের জানফাদা, শত্রুর সামনে মানবপ্রাচীর

জানফাদা কর্মসূচির ব্যাপক বিস্তারের মাধ্যমে ইরান রাষ্ট্রের পক্ষে বড় আকারের জনসম্পৃক্ততা দেখাতে চাইছে। সরকার জানিয়েছে, কর্মসূচির ওয়েবসাইটে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু এই সংখ্যার পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। এ বছরের শুরুতে ওয়েবসাইটের সোর্স কোড পরীক্ষা করে বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন ইরানি কর্মী জানান, তখন নিবন্ধনের সংখ্যা ৪০ লাখেরও কম ছিল। নিবন্ধনের জন্য শুধু ফোন নম্বর প্রয়োজন হওয়ায় প্রকৃত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

এএস
আরও পড়ুন