জোট সরকার গঠনে বেন-গভির ও স্মোত্রিচের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা যখন জোরালো হচ্ছে, তখন জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তিনি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির এবং ধর্মীয় জায়নবাদী পার্টির নেতা বেজালেল স্মোট্রিচের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও বিকল্প সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনের পর ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে কোনো রাজনৈতিক জোটই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আগ্রহী দলগুলো বিভিন্ন সমীকরণে বৈঠক করছে। এসব আলোচনায় আরব দল রা’আমের অংশগ্রহণের বিষয়টিও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান রা’আমের চেয়ারম্যান মনসুর আব্বাস, ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট এবং ইয়েশ আতিদের নেতা ইয়ার লাপিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। অন্যদিকে বি’ইয়াচাদ পার্টির চেয়ারম্যান নাফতালি বেনেট বৈঠক করেন আইজেনকট ও গোলানের সঙ্গে। এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য নেতানিয়াহুর বিকল্প সরকার গঠনের পথ খুঁজে বের করা।

এদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবিরেও জোট ধরে রাখার তৎপরতা চলছে। ইতামার বেন-গাভিরের দল ওতজমা ইয়েহুদিত জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বেন-গাভির। তাদের আলোচনায় ডানপন্থী সরকার টিকিয়ে রাখা এবং সন্ত্রাসবাদের সমর্থকদের সমর্থনপুষ্ট বামপন্থী সরকার গঠন ঠেকানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই দিন স্মোট্রিচের সঙ্গেও বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। এটিকে দুই পক্ষের পদক্ষেপ সমন্বয়ের আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

নির্বাচনের ফল নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইজেনকটের অভিযোগ

এদিকে নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকট। তার দাবি, নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ সমন্বিতভাবে নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা ক্ষুণ্ন করার প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে শিন বেতের প্রধান এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন আইজেনকট। তিনি বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পেশাদার কর্তৃপক্ষকে স্বাধীনভাবে তদন্ত শেষ করতে দিতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

নেসেটের নতুন অধিবেশন ও সদস্যদের শপথ গ্রহণের নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তনেরও বিরোধিতা করেছেন আইজেনকট। তিনি জানান, নতুন নেসেট অধিবেশন শুরু হলে কয়েকটি বিল উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দল। এর মধ্যে ইসরায়েলের সব নাগরিকের জন্য সামরিক নিয়োগ ও জাতীয় সেবার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ, ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন এবং বাজেট বরাদ্দের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।

আলোচনায় ধৈর্য ধরার আহ্বান লাপিদের

অন্যদিকে নির্বাচনে কোনো পক্ষই নেসেটের ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইয়েশ আতিদের নেতা ইয়ার লাপিদ। তার মতে, নির্বাচনে চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা না এলেও ফলাফল নেতানিয়াহুবিরোধীদের জন্য বিজয় হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।

লাপিদ নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান ফলাফলের ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের সুযোগ নেই। তবে বিকল্প সরকার গঠনও সহজ হবে না বলে স্বীকার করেছেন তিনি। এ প্রক্রিয়ায় সফলতার নিশ্চয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেন লাপিদ।

সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ে প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য জানার প্রত্যাশা না করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লাপিদের ভাষায়, সরকার গঠনের আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে এবং এ কাজ অনেকটাই নীরবে সম্পন্ন করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটিকে তিনি ঘড়ি নির্মাতার কাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে প্রতিটি যন্ত্রাংশ সতর্কতার সঙ্গে জোড়া লাগানোর পরই পুরো ব্যবস্থা সচল হয়। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট 

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত