ইরানে নতুন করে হামলার জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ এএম

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে, কেউ কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে চান। আবার কেউ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

শুক্রবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব।

অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে। তাঁদের লক্ষ্য, আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। তাঁরা নতুন করে বড় সামরিক অভিযান বা তাৎক্ষণিক সমঝোতার পরিবর্তে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির বাণিজ্যের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ বজায় রাখার পক্ষে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বাইরের কয়েকজন উপদেষ্টা ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি পরিত্যাগে বাধ্য করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, এমন লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রাজনৈতিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

নতুন হামলা ঠেকাতে কাতারের শেষ মুহূর্তের তৎপরতা

এদিকে ইরানে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়া ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে কাতার। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দোহা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করছে।

কাতারের উদ্যোগের লক্ষ্য, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার পথ তৈরি করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বাণিজ্যের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো।

এর আগে ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির মধ্যে ফোনালাপ হয়। একই দিনে কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ। এসব যোগাযোগে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সিদ্ধান্তহীনতায় ট্রাম্প, সামনে তিন পথ

ইরান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সামনে মূলত তিনটি পথ রয়েছে—নতুন করে বড় সামরিক অভিযান শুরু করা, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা।

নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে দুই পক্ষকেই গুরুত্বপূর্ণ শর্তে ছাড় দিতে হতে পারে। আর অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

৬ নভেম্বরের দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবের একটি পর্যায়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশ এবং পরবর্তী পর্যায়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয় রয়েছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে কৌশলগত বিভাজন এবং নেতানিয়াহুর সামরিক চাপের বিপরীতে কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত