যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই নির্বাচনের কয়েক দিনের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় পরিবর্তন আনলেন তিনি। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও কঠোর অভিবাসননীতির অন্যতম রূপকার স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী সোমবার, ৯ নভেম্বর থেকে তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার কথা।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এ নিয়োগের ঘোষণা দেন। বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। ট্রাম্প মিলারকে তাঁর ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন’ বলে উল্লেখ করেছেন।
নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মিলার লেখেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য আগের চেয়ে আরও স্পষ্ট: প্রেসিডেন্টকে সমর্থন এবং এই মহান প্রজাতন্ত্রকে রক্ষায় সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করা।’
ওয়াশিংটনের ক্ষমতাকাঠামোয় চিফ অব স্টাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব এ পদে থাকা ব্যক্তির ওপর থাকে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্টিফেন মিলার শুরু থেকেই আমার সঙ্গে আছে। সে বিষয়গুলো বোঝে।’
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসননীতি ও ব্যাপক বহিষ্কার কর্মসূচির অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত মিলার। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার এবং এসব অভিযানে অর্থায়ন বাড়ানোর পক্ষে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী’ ও ‘হত্যাকারী’ বলেও বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন মিলার। পরে তিনি বক্তব্যের সুর নরম করে বলেন, ফেডারেল এজেন্টরা যথাযথ প্রটোকল অনুসরণ না-ও করে থাকতে পারেন।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে পরিচালিত অভিযানের ক্ষেত্রেও মিলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযানের কিছু ঘটনাকে সমালোচকেরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।
২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে যুক্ত ছিলেন মিলার। নির্বাচনী সমাবেশে তিনি ট্রাম্পের পক্ষে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিতেন এবং প্রচার কৌশল সাজাতে ভূমিকা রাখতেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পুরো সময় হোয়াইট হাউসে থাকা অল্প কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার একজন ছিলেন তিনি। ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় উল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরও তাঁর প্রতি আনুগত্য বজায় রাখেন মিলার। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি নীতিবিষয়ক উপপ্রধানের দায়িত্ব পান।
ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সুসি ওয়াইলস। হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তুলনামূলকভাবে সংযত ও পেশাদার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ঘন ঘন কর্মকর্তা পরিবর্তন, নীতিগত বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিপরীতে তিনি প্রশাসনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াইলসের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর সেই দূরত্ব আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওয়াইলসের ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে লাভজনক পরামর্শক কাজ পাচ্ছেন—এমন সংবাদেও ট্রাম্প অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প কংগ্রেসের নতুন ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু মিলারের মতো কঠোর অবস্থানের উপদেষ্টাকে চিফ অব স্টাফ করা সেই সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, মিলারের নিয়োগ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক বিষয়ে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে যেতে থাকা কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগও বাড়তে পারে।
এ নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন নীতিগত অবস্থান বদলানোর বদলে বিদ্যমান কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের ধরনই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেবে।
সূত্র: বিবিসি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ ও রয়টার্স
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীন-কাতার ও ইরাককে কেন ছাড় দিচ্ছে ইরান?
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের সংক্রমণ
পিৎজায় আনারস দিতে রাজি না হওয়ায় চাকরি হারালেন ইতালীয় শেফ