নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান ও রাশিয়া। মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ির তিন ঘণ্টার বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এক সাক্ষাৎকারে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
জালালি জানান, বৈঠকটি ছিল আন্তরিক ও সমন্বিত পরিবেশে। এতে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার সর্বশেষ অগ্রগতি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে রাশত-আস্তারা রেলপথ নির্মাণ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর (আইএনএসটিসি) সম্পন্ন করার বিষয়ে ইরানের সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস ইরানে সরবরাহের বৃহৎ কৌশলগত প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
জালালির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং কার্যকর নিশ্চয়তা ছাড়া সরাসরি আলোচনার অকার্যকারিতা নিয়ে ইরানের অবস্থান পুতিনের কাছে তুলে ধরেন রেজায়ি।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠির বিষয়বস্তু এবং এর জবাবে ইরানের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেন তিনি। রেজায়ির বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জালালি বলেন, শুধু আলোচনা কোনোভাবেই যুদ্ধ অবসানের ভিত্তি হতে পারে না। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ওয়াশিংটন বারবার সংলাপকে আগ্রাসন ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই দেশটি হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি পাঠানোর পর, ওমানে আলোচনা চলাকালে, ১২ দিনের যুদ্ধের পর জেনেভা আলোচনা এবং ইসলামাবাদ ঘোষণার আওতায় সমঝোতা কার্যক্রম চলার সময়ের ঘটনা।
জালালির দাবি, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর দিয়ে সম্মত транজিট রুট এড়িয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েও যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অনীহা দেখিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে ইরানের সাতটি কৌশলগত শর্ত সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে মেনে নেওয়ার বিষয়টিকে যেকোনো কূটনৈতিক উদ্যোগের পূর্বশর্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে তেহরান।
রুশ পক্ষ ইরানের এই অবস্থান বুঝতে পেরেছে এবং সমর্থন করেছে বলেও দাবি করেন জালালি।
পারমাণবিক ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিয়মের বাইরে ইরানের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে মস্কো স্বীকার করেছে—এমন দাবি করেন জালালি।
তিনি বলেন, রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে ইরানের প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে ইরানের সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে বড় শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান ও আপত্তি তুলে ধরেছে।
জালালি বলেন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। দুই দেশের আলোচনায় নিরাপত্তা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিন্ন হুমকি, চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ বিবেচনায় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপকে কৌশলগত প্রয়োজন বলে মনে করে দুই দেশ। এ লক্ষ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানান ইরানের রাষ্ট্রদূত।
ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি বেড়েছে ৯৩ শতাংশ, মৃত্যু ৫০ শতাংশ
ইরানে গোয়েন্দামন্ত্রী নিয়োগে পেজেশকিয়ানকে এমপির আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আটক করা সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে ইরান
শিক্ষক নিয়োগে নতুন পদ্ধতি, বদলাতে পারে সিলেবাস-নম্বর বণ্টন