নাসরাল্লাহর মৃত্যুতে ইরানে পাঁচ ও ইরাকে তিনদিনের শোক

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:৩২ পিএম

ইসরায়েলের হামলায় লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদল হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ইরাক ও ইরান। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের পৃথক বিবৃতিতে এ শোক প্রকাশ করা হয়। খবর আল জাজিরার।

হাসান নাসরাল্লাহ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এ ছাড়া তার মৃত্যুতে ইরানে পাঁচদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পড়া এক বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, হাসান নাসরাল্লাহ একক কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি ছিলেন একটি পথ ও একটি চিন্তাধারা। এই পথ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, শহীদের রক্তের প্রতিশোধে ছাড় দেওয়া হবে না।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাসরাল্লাহকে হত্যার দাবি করার পরপরই আরেকটি বিবৃতি দিয়েছিলেন খামেনি। সেখানে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণ করবে প্রতিরোধ যোদ্ধারা। তাদের অগ্রভাগে থাকবে হিজবুল্লাহ।

এদিকে হাসান নাসরাল্লাহর হত্যাকাণ্ড ‘প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আরও শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নাসরাল্লাহর হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন তিনি।

মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভুলে যাবে না যে এই সন্ত্রাসী হামলার নির্দেশ নিউইয়র্ক থেকে জারি করা হয়েছিল। তিনি সম্ভবত শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতি ইঙ্গিত করে।

তিনি আরও বলেন, নাসরাল্লাহর হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

এদিকে হাসান নাসরাল্লাহর মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরাক। নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছেন বলে হিজবুল্লাহ নিশ্চিত করার পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির কার্যালয় ঘোষণা দেয়।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ‘ইহুদিবাদী আগ্রাসনে সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ও তার সহযোদ্ধাদের শাহাদাতের সম্মানে ইরাকজুড়ে তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন আল-সুদানি। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলি বোমাবর্ষণকে ‘লজ্জাজনক আক্রমণ’ আখ্যায়িত করে বলেন, হাসান নাসরাল্লাহ ধার্মিকদের পথে একজন শহীদ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতিরোধের নেতা হাসান নাসরাল্লাহর গৌরবময় সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। কুদস (জেরুজালেমের) মুক্তির ক্ষেত্রে তার পবিত্র লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।

এর আগে ইসরায়েলি দখলদার সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা বৈরুতে বিমান হামলায় নাসরাল্লাহ ও অন্যান্য নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেই বলেছেন, নাসরাল্লাহ এবং হিজবুল্লাহর দক্ষিণ ফ্রন্টের কমান্ডার আলী কারাকি এবং আরও কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে বিমান বাহিনী লেবাননের দক্ষিণে একটি আবাসিক ভবনের নিচে অবস্থিত হিজবুল্লাহর কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরে অভিযান চালায়। এ সময় হিজবুল্লাহর নেতারা তখন সদরদপ্তরের ভেতরে ছিল।

SM/FI
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত