'আন্তর্জাতিক আইন মানার প্রয়োজন নেই': ট্রাম্পের হুঙ্কার

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ‘আগ্রাসী’ বৈদেশিক নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা জোরপূর্বক আটক করার পর ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তার কর্মকাণ্ড কোনো আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা নয়, বরং কেবল তার ‘নিজস্ব নৈতিকতা’র ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ‘আমার আন্তর্জাতিক আইনের কোনো প্রয়োজন নেই। আমি মানুষের ক্ষতি করতে চাই না, তবে আইনের সংজ্ঞা আমার নিজের ওপর নির্ভর করে।’

গত শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে অতর্কিত বিমান ও স্থল হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। অভিযানের একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন, যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।

হামলার পর ট্রাম্প দাবি করেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং দেশটির বিপুল তেল সম্পদ ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। হোয়াইট হাউস অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার কথা বললেও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন নির্দেশ অমান্য করলে আবারও সামরিক হামলা চালানো হবে।

কেবল ভেনেজুয়েলা নয়, ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারও। পাশাপাশি ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টাও জোরদার করেছেন তিনি।

এর আগে জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলার নির্দেশ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়েছিলেন এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের এমন অবস্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মার্গারেট স্যাটারথওয়েট সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করার এই প্রবণতা বিশ্বকে আবারও মধ্যযুগীয় ‘সাম্রাজ্যবাদে’ ফিরিয়ে নিতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

DR/SN
আরও পড়ুন