ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুমকির মধ্যেই যুদ্ধ এড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাক তিনি চান না, যেখানে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে হবে। যদিও একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে কথা চলছে এবং বিশাল নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হলেও তা ব্যবহার না করারই আশা করছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন পড়বে না— এটাই আশা করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা মার্কিন ঘাঁটি ও বিমানবাহী রণতরীতে আঘাত হানবে।
ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সামরিক অভিযান এড়ানোর সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রয়েছে। এর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে এবং তেহরানের জন্য সময় ‘ফুরিয়ে আসছে’। ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আগেও কথা বলেছি, এখনও বলছি, ভবিষ্যতেও বলার পরিকল্পনা আছে।’
স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি দল ইরান নামে একটি জায়গার দিকে যাচ্ছে, আর আশা করছি আমাদের সেটা ব্যবহার করতে হবে না।’
এই সপ্তাহে ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনের বক্তব্যের কঠোরতা বাড়ার পাশাপাশি ইরান যখন তীব্র হুমকি দিচ্ছে তখন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও আঞ্চলিক বিপর্যয় এড়াতে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনও পদক্ষেপ নিলে তেহরানের জবাব সীমিত থাকবে না। গত বছরের জুনের চেয়েও এবার আরও দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেয়া হবে বলে জানান তিনি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলোর ‘গুরুতর দুর্বলতা’ রয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বহু মার্কিন ঘাঁটি ইরানের মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আছে।
তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি ভুল হিসাব করে, তাহলে পরিস্থিতি ট্রাম্প যেমন ভাবছেন তেমন হবে না। একটা দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই ঘণ্টা পর টুইট করে বলা যাবে না যে অভিযান শেষ।’
উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা এখন ‘খুবই স্পষ্ট’। তিনি বলেন, ‘এতে গোটা অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠবে, শুধু এখানকার নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর তেল ও গ্যাসের দাম হবে আকাশচুম্বী।’
এদিকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ফোনে কথা বলেছেন। কাতার নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা কমানো ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন অভিযানে প্রাণহানির ঘটনায় ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছে।

