মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত 'বোর্ড অব পিস' উদ্যোগে অংশ নেবে না ভ্যাটিকান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভ্যাটিকানের শীর্ষ কূটনীতিক কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন এক বিবৃতিতে এ অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় প্রধান দায়িত্ব থাকা উচিত জাতিসংঘের হাতে।
ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুরুতে বোর্ডটি গঠন করা হয় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের পর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও পুনর্গঠন তদারকির লক্ষ্যে। পরবর্তীতে এর কার্যপরিধি বাড়িয়ে বৈশ্বিক বিভিন্ন সংঘাত সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ট্রাম্প নিজেই এ বোর্ডের চেয়ারম্যান। ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার বোর্ডের প্রথম বৈঠকে গাজার পুনর্গঠন ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ভ্যাটিকান জানায়, তাদের বিশেষ কূটনৈতিক অবস্থানের কারণে এ ধরনের রাজনৈতিক কাঠামোয় যুক্ত হওয়া সমীচীন নয়। কার্ডিনাল প্যারোলিন জোর দিয়ে বলেন, 'আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংকট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব জাতিসংঘের হাতেই থাকা উচিত।' সমালোচকদের আশঙ্কা, এই বোর্ড জাতিসংঘের বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী কাঠামো হিসেবে দাঁড়াতে পারে।
গত জানুয়ারিতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প 'শান্তি বোর্ড' গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর অন্তত ১৯টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সনদে স্বাক্ষর করেছে বলে জানা গেছে। স্থায়ী সদস্যপদ পেতে এক বিলিয়ন ডলার অনুদানের শর্ত রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইতালি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক হিসেবে বৈঠকে থাকতে পারে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডে যোগ দেয়নি। বোর্ডে কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি না থাকা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে। গাজায় চলমান সংঘাতে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকটের মধ্যেই নতুন এই উদ্যোগকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক সতর্কতা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় সংসদের পর এবার নজর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে
