যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর করেছেন ১০ শতাংশ হারে, যদিও তিনি আগে উচ্চ হারে এগুলো আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট তার বিস্তৃত আমদানির শুল্কের অনেকটি ব্লক করার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন ১০ শতাংশ হারে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করা হবে। পরেরদিন শনিবার তিনি হারে ১৫ শতাংশ করার কথা বললেও, সরকারি নথি অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুল্ক কার্যকর হয়েছে নিম্ন হারে এবং হারের বৃদ্ধি করার কোনও নির্দেশনা এখনও জারি হয়নি। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বিবিসি মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করেছে।
বিনিয়োগ ব্যাংক আইএনজি-এর বিশ্লেষক কার্সটেন ব্রজস্কি বলেন, 'দ্রুত পরিবর্তনশীল শুল্ক এবং তার ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণে এটি কেবল বিশৃঙ্খলা এবং জটিলতা বাড়াচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'অস্থিরতার দিক থেকে আমরা গত বছরের অবস্থায় ফিরে গিয়েছি। এবার বৈশ্বিক ব্যবসায়িক অংশীদারদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে। বাস্তব অর্থে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য যুদ্ধের ঝুঁকি স্পষ্টভাবে গত বছরের তুলনায় বেশি।'
ট্রাম্প শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে জানিয়েছিলেন যে, অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক 'মৌলিক আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সমস্যা সমাধান এবং আমেরিকার শ্রমিক, কৃষক ও উৎপাদকদের সুবিধার্থে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনরায় সমন্বয়' করার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার আওতায় এই শুল্ক প্রয়োগ করছে, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ১৫০ দিনের জন্য আরোপ করা সম্ভব।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন, আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে শুল্ক অপরিহার্য। তবে এই ঘাটতি গত সপ্তাহে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২.১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার (৮৯০ বিলিয়ন পাউন্ড) হয়েছে। ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই অন্তত ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক সংগ্রহ করেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প আইইইপিএ ব্যবহার করে বিস্তৃত শুল্ক আরোপে তার কর্তৃত্ব অতিক্রম করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসায়ীদের বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরতের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গ্লোবাল পরিবহন ও পোস্টাল কোম্পানি ফেডেক্স একটি মামলায় 'পূর্ণ ফেরত দাবী করেছে, যা তারা আইইইপিএ অনুযায়ী শুল্ক হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রদান করেছে। এছাড়া প্রচারণা গ্রুপ ‘উই পে দ্য ট্যারিফস’ যুক্তরাষ্ট্রের ৯০০-এর বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হয়ে সরকারের কাছে খোলা চিঠিতে দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্ক ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুল্ক ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, বিষয়টি 'পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে আদালতে লড়াই করা হবে।' সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ব্রেট কাভানোও বলেছেন, ফেরতের প্রক্রিয়া সম্ভবত 'জটিল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ' হবে। ট্রাম্প এই রায়কে 'অতিশয় অযৌক্তিক', খারাপভাবে লেখা এবং অসাধারণভাবে অ-আমেরিকান” বলে সমালোচনা করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সোমবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যারা “নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে খেলাচ্ছলে” করবে, তাদের ওপর আরও উচ্চ হারের শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী দেশগুলো বলেছে, তারা রায় অনুযায়ী কোন শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তি বজায় থাকবে তা মূল্যায়ন করছে।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তার শুল্ক চুক্তি মানে না, তবে 'পাল্টা পদক্ষেপও নেওয়া সম্ভব', তবে তারা কোনো বাণিজ্য যুদ্ধের দিকে যেতে চায় না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গ্রীষ্মে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এর অনুমোদন স্থগিত করা হবে। ইউরোপীয় সংসদের যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রান্ডো বেনিফেই বলেছেন, 'যদি শর্ত খারাপ হয়, আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। সমস্ত দেশকে মিলেমিশে কাজ করার অনুরোধ জানাই।'
ভারতও জানিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত আলোচনাগুলো স্থগিত রাখা হবে, যাতে সাম্প্রতিক চুক্তি চূড়ান্ত করা যায়।
ইরানে বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪
